৫ম ধাপেও পাবনায় নৌকা ডুবাল বিদ্রোহীরা

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাবনার বেড়ার উপজেলার ৯টি ও ফরিদপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বেড়ার ২টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা প্রতীকের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী জয় লাভ করেছেন।

ফলে চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ করা ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৮টি ইউপিতে আর নৌকার প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৫টি ইউপিতে। এর মধ্যে বেড়া উপজেলার ৭টির মধ্যে ৬টিতেই বিদ্রোহীদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাতে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বেড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মাহমুদা আক্তার এবং ফরিদপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার।

বিজয়ীরা হলেন- বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়ার ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের আব্দুল হামিদ, কৈটোলাতে ঘোড়া প্রতীকের মহসিন উদ্দিন, চাকলায় ঘোড়া প্রতীকের মো. ইদ্রিস আলী, নতুন ভারেঙ্গায় আনারস প্রতীকের আবু দাউদ, জাতসাকিনীতে আনারস প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ মানিক , রুপপুরে আনারস প্রতীকের মো. মহন এবং ঢালারচর ইউনিয়নে নৌকার প্রতীকের কোরবান আলী। এই উপজেলার নৌকা প্রতীকের পুরান ভারেঙ্গায় রফিক উল্লাহ এবং মাসুমদিয়ায় শহীদুল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন।

ফরিদপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে নৌকার সরোয়ার হোসেন, হাদলে নৌকার সেলিম হোসাইন, বৃলাহিড়ীবাড়ীতে নৌকার জাহিদুল ইসলাম রিপন, পংগলীতে নৌকার সাজেদুল ইসলাম সুমন, ডেমরায় স্বতন্ত্র জুয়েল রানা এবং বনওয়ারী নগরে স্বতন্ত্র জিয়াউর রহমান জয় লাভ করেছেন।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ভোটগণনা শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনে প্রশাসনের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা প্রয়োগ দেখা গেছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, যমুনা ও পদ্মার তীর ঘেষা এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮৩ জন। ভোটারদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এসব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনে পুলিশ ও আনসার মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং, স্ট্যান্ডবাই ফোর্স মোতায়েন করা ছিল।