১৯ বছর পর রায়, পাবনায় ৩ চরমপন্থির যাবজ্জীবন

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার খানপুরের চাঞ্চল্যকার আবু মুছা খা নামের এক নেতা হ×ত্যার ঘটনায় ৩ চ×রমপন্থি নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। আর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ২০ জনকে বেখসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। নিহত আবু মুছা খাঁ উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের মৃত জয়নাল খাঁর ছেলে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাবনার সদর উপজেলার তারাবাড়িয়ার সৈয়দ আলীর ছেরে মোহাম্মদ আলী (৪০), আতাইকুলার গাঙ্গুহাট ক্লাব পাড়ার মো. ইউসুফের ছেলে খোকন (৪২) এবং সাঁথিয়ার ভদ্রখোলার ইউসুফ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫)। সাজাপ্রাপ্ত সবাই পলাতক রয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট দেওয়ান মজনুল হক। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খান, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আলতাব, অ্যাডভোকেট আহাদ বাবু এবং অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৩ আগস্ট সকালে সাইকেল মেরামতের দোকানে কাজে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১০/১২ জন সন্ত্রাসী আবু মুছা খাঁকে হাটবাড়ীয়া-বোয়াইলমারীর ডাব বাগানের ভেতরে নিয়ে মাথা ও বুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

এঘটনার নিহতের স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুন পাবনার সাঁথিয়া থানায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পরের বছরে ২০০৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ২৩ জনের নাম উল্লেখ্য করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১০ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণসহ দীর্ঘ শুনানির পর আজ আদালত হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও পরিকল্পনাকারী ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকীদের খালাসের এই আদেশ দেন।

অ্যাডভোকেট দেওয়ান মজনুল হক জানান, ভিকটিম ও আসামিরা সবাই চরমপন্থার সাথে যুক্ত ছিলেন। চাঁদার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হয়। এর জেরেই তাকে হত্যা করা হয়। আসামি চরমপন্থি হওয়ায় স্বাক্ষী দিতে অনেকেই ভয় পেয়েছিলেন, ফলে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয়। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।