চোখ রাঙাচ্ছে পদ্মা-যমুনা, ঝুঁকিতে পাবনার ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল!

বন্যায় বিপর্যস্ত গোটা সিলেট বিভাগ। বিভাগের অর্ধেকের বেশি এখন পানির নিচে। দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট। এরই মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে যমুনা ও পদ্মার তীর ঘেষা পাবনা জেলা।

পূর্বাভাসের দুই দিনের মাথায় দেশের দুই প্রধান নদী পদ্মা ও যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই এই দুই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি। যেকোনও সময় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকলে ১-২ দিনের মধ্যেই নদী দুটির তীর ঘেঁষা পাবনার উঠতি ফসল ও সবজির খেত তলিয়ে যেতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী প্রকেীশলী জাহিদ হোসেন পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, মঙ্গলবার (২১ জুন) পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার এবং যমুনার নগরবাড়ি পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটার। যমুনা নদীর বিপদসীমা ধরা হয় ১০ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার। আর পদ্মায় বিপদসীমা ধরা হয় ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার।

এর আগেরদিন সোমবার (২০ জুন) হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার এবং যমুনার নগরবাড়ি পয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার। আর রবিবার রেকর্ড করা হয়েছিল পদ্মায় ০৮ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার এবং যমুনায় ৯ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। এদিনের ব্যবধানে পদ্মায় দশমিক ৪৮ সেন্টিমিটার এবং যমুনায় দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও পাবনার বড়াল, চিকনাই, গুমানি, ইছামতি, বারনাই ও চিত্রা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যেই পাবনার বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে প্লাবিত হতে পারে পাবনার নিম্নাঞ্চল। বিশেষ করে পদ্মার তীর থেকে মুজিব বাঁধ পর্যন্ত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের প্রায় ৪-৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়ার চরাঞ্চলে বেশিরভাগই রয়েছে সবজি খেত। বিশেষ করে ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডার চর কুড়ুলিয়া, কামালপুর, বিলকাদা, সাঁড়া, সদরের হেমায়েতপুরের ইউনিয়নের চর ভবানীপুরের কয়েকশ হেক্টর জমিতে রয়েছে আঁখ, কলা, করলা, কুমড়া, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি খেতের। পানি বাড়িতে থাকলে এসব জমির খেত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বেড়া ও সুজানগরের পদ্মার তীর ঘেষা বাদাম ও ধানসহ বেশ কিছু খেত হুমকির মুখে পড়তে পারে। হুমকির মুখে পড়তে পারে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের কিছু বিল অঞ্চলের বোনা আমন ধানও।

ঈশ্বরদীর কামালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, আমাদের এখানে এখনও পানি আসেনি। তবে যেভাবে পানি বৃদ্ধির কথা শুনছি তাতে আশঙ্কায় আছি। স্বাভাবিকের চেয়ে একটু পানি বৃদ্ধি পেলেও আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই হলে এই এলাকর অন্তত হাজারের বেশি হেক্টর জমি ক্ষতি গ্রস্ত হয়ে পড়বে।

সদরের চর ভবানীপুর গ্রামের মজিবুর রহমান বলেন, আমার ২০ বিঘা জমির ওপর কলার গাছ রয়েছে। ১০ বিঘা জমির ওপর করলা, বেগুন ও মরিচের আবাদ করেছি। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এসব খেতের ফসল ঘরে তুলতে পারবো কি-না আশঙ্কায় আছি।

তবে আশার বাণী শোনালেন পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইফুল আলম। তিনি পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, এখনও বন্যা দেখা দেয়নি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুনেছি ঈশ্বরদীর ওইদিকে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি নতুন, এখনও তেমন তথ্য আমার কাছে নেই। খোঁজখবর নিচ্ছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এবিষয়ে পাবনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, এখনও আমাদের এখানে বন্যা দেখা যায়নি। তবে খোঁজখবর নিয়েছি, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরাও সেই হিসেবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বন্যা কবলিত এলাকার জন্য চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে, গুলো উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বন্যা দেখা দিলেও সেগুলো বিতরণ করা হবে।