হাইকোর্টের চিঠি পাবনায়, পৌরসভার সব নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত 

অবশেষে নির্বাচন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনার চিঠি পৌঁছাল পাবনায়। চিঠি পাওয়ার পরপরই বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) পাবনার সুজানগর পৌরসভা নির্বাচনের সব কার্যক্রম বন্ধ করলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার।

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সুজানগর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি আসে। এ চিঠি পাওয়ার পরই নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে মর্মে পৌরসভায় মাইকিং করা হয়।

গত ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন শামিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের দেয়া আদেশে দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় সুজানগর পৌরসভার নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়।

হাইকোর্ট গেজেটে প্রকাশিত বর্ধিত শহর এলাকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে পাবনার সুজানগর পৌরসভার নির্বাচন করার নির্দেশ দেন।

পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার সিদ্দিকুর রহমান এবং একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মোখছেদ আলী এক রিট আবেদনে বলেন, ১৯৯৮ সালে সুজানগর পৌরসভা প্রতিষ্ঠাকালে সাবেক সুজানগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মথুরাপুর, নারায়ণপুর ও কৃঞ্চপুর গ্রাম অজ্ঞাত কারণে পৌরসভা থেকে বাদ দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে সুজানগর পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেয়র এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ওই তিন এলাকার জনসাধারণ পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করে। এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওহাব পৌর মেয়র নির্বাচিত হন।

এরপর আবারও ওই তিন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ তিন এলাকাকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল এবং একই বছরের ৬ আগস্ট উল্লেখিত তিন এলাকা সুজানগর পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।

চূড়ান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচনের দাবিতে ইতোমধ্যে এলাকাবাসী কয়েক দফা মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

 

এ অবস্থায় বাদীর আরজি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, কেবিনেট ডিভিশনের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, পাবনার জেলা প্রশাসক, সুজানগর পৌরসভার মেয়র, সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভায়না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালন-২ অধিশাখার উপসচিব, সহকারী সচিবের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।

এদিকে আগের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ২০ ডিসেম্বর ২ জন মেয়র এবং ৪৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করায় সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. রওশন আলীকে লিগ্যাল নোটিশ দেন বাদীর আইনজীবী।

এছাড়া মঙ্গলবার ছিল নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। একই দিন নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালন-২ অধিশাখার উপসচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাচনী সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়। এরপরই রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডসহ সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করেন।