সোনালী পরিবহনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত!

গাড়ি চালুর আগেই ভোগান্তি শুরু। যাত্রী হয়রানি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো থেকে এমন কোনো অবৈধ কাজ নেই যা করে না ঢাকা-যশোর রোডে চলাচলরত সোনালী পরিবহন। এবার তাদের বিরুদ্ধে উঠল এক শিক্ষার্থী লাঞ্ছিতের অভিযোগ। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তরের ছাত্র এফএ শাহেদ। তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে লাঞ্ছিতের অভিযোগ করেন।  

জানা যায়, যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার পুড়াপাড়া বাজার হতে সোনালী পরিবহনের একটি কোচে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশ্য ১৪ নভেম্বর বিকেলে রওনা হন ওই শিক্ষার্থী। বাসটিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একটি বাই-সাইকেল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হন।

যাত্রীভাড়া সাড়ে চারশো এবং সাইকেলের ভাড়া বাবদ ১৫০  টাকা রাখে বাসটি। সঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতিতে ভুক্তভোগী গাড়িতে যাত্রা শুরু করে।

তিনি জানান, ‘বাসটি প্রথমতঃ সাড়ে চারটায় ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়ে ৪০ মিনিট দেরিতে। বাসটি যখন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়, বাসের সুপারভাইজার জানান, এটি গাবতলী যাবে না। এটি নবীনগর থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ যাবে, এবং যারা গাবতলী ও শাহবাগের দিকে যাবে তাদেরকে আরেকটি সোনালী কোচে নবীনগর হতে তুলে দেওয়া হবে, সাথে আমার বাই-সাইকেলটিও তুলে দেওয়া হবে। 

‘নবীনগর বাসটি এলে অন্য যাত্রীদের সাথে বাসের উপরে থাকা ফুল, এবং কাঁচামাল গাবতলী-শাহবাগগামী সোনালী পরিবহনে তুলে দেওয়া হয়, কিন্তু তারা আমার সাইকেল নিতে অসম্মত জানায়’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, আগের বাসটি আমার সাইকেলটি নামিয়ে দ্রুত স্থানত্যাগ করে, পরবর্তী যে বাসটিতে আমাকে ও আমার সাইকেলটি নেবার কথা ছিল তারা কোনোভাবেই সাইকেল নেয়ার ব্যবস্থা থাকার পরও নিতে রাজি হয়নি। বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারকে অনুরোধ করলেও তারা উল্টা ধমক দেয়, এবং নিজেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তা তদের উপহাস ও ঠাট্টার বিষয়ে পরিণত হয়। আমার অনুরোধে পাশে থাকা রিকশাচালকদের মন গললেও তাদের মন গলেনি। রাত ২টা ১০ মিনিটে নবীনগর হতে গাবতলী যাবার কোনো উপায় না বলার পর তারা জানান এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। এর প্রতিবাদ করলে সুপারভাইজার ও হেলপার মারতে উদ্ধত্য হয়।

সোনালী পরিবহনের কর্তৃপক্ষকে ফোন দিয়েও কোনো সাড়া মিলেনি বলে অভিযোগ করেন এই ছাত্র। তিনি বলেন, সোনালী পরিবহনের শান্তাহার কাউন্টারে কল দিলে তারা বলে তারা কিছু করতে পারবে না, এটি আমাকে গাবতলী গিয়ে একটা সমাধান করতে। আমি এই গভীর রাতে কীভাবে গাবতলী যাব প্রশ্ন করলে তিনি গাবতলী যোগাযোগ করতে বলে লাইন কেটে দেয়।

এফ এ শাহেদ বলেন, সোনালী পরিবহনের মতো একটি পুরাতন পরিবহনের নিম্নমানের যাত্রী সেবাতে আমি হতবাগ ও বিস্মিত। আমার শুধু একটাই দাবি যে পরিবহন সেবার পরিবর্তে যাত্রীদের হয়রানি, লাঞ্ছিত এবং মধ্যরাতে বিপদের মুখে ফেলতে একবারও ভাবে না তাদের পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমি যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি এবং তাদের শাস্তির দাবি জানাই।