সেতু নয়, ত্রিমুখি ‘Y সিস্টেম’ ২য় পদ্মা সেতু চায় পাবনাবাসী

দীর্ঘ ২০ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলবাসীর বহুল প্রত্যাশিত পাবনার কাজিরহাট-আরিচা ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি হলো ত্রিমুখি Y সিস্টেম ২য় পদ্মা সেতু ।

জেলাবাসী বলছেন, ফেরি চলাচলে আপাতত স্বস্তি মিললেও প্রধান দাবি Y সিস্টেম সেতু। ঢাকা এবং দেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাপাই নবাবগঞ্জ, নওগাসহ উত্তরাঞ্চলবাসীর দুরত্ব কমানোর জন্য ত্রিমুখি Y সিস্টেম সেতু (২য় পদ্মা সেতু) নির্মাণ করা প্রয়োজন।

ইতোমধ্যে পাবনা বিভিন্ন সংগঠন এই দাবিকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি পালান করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পাবনাকে সংযুক্ত করে রেললাইনসহ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দুটি পৃথক সেতু নির্মাণের চেয়ে এ পদ্ধতি খরচও কম হবে।

দাবি জানিয়েছেন রাজবাড়ীবাসীও। তারাও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তারা বলছেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার সাথে পাবনার নগরবাড়ি সংযুক্ত করে ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হোক। ১৪টি জেলা ও পাবনা এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত করে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে রাজবাড়ী জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন গতিশীল হবে এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক যুগান্তকারী সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।

এর আগে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সব শঙ্কা কাটিয়ে প্রতিক্ষার দীর্ঘ ২০ বছর পর স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজিরহাট-আরিচা ফেরি চলাচল শুরু হয়। বেগম রোকেয়া, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, কেতকী নামের তিনটি ফেরি চলাচল করবে এই রুটে।

এদিন সকালে উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহামুদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন শামসুল হক টুকু এমপি, আহম্মেদ ফিরোজ কবির এমপি ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয, বিআইডব্লিউটিএ- চেয়ারম্যান কমোডোর গোলাম সাদেকসহ বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডবিলউটিএ’র কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এতোদিন ধরে পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবানগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার লাখ লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজিরহাট থেকে স্পিডবোট ও ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকায় আরিচা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে সড়কপথে ঢাকা পৌঁছাতে যেখানে ৫/৭ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। সেখানে নদীপথে মাত্র ৪/৪ ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

ফেরিতে এ পথ পাড়ি দেয়া যাবে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক গণমাধ্যমকে জানান, পাবনাসহ আশপাশের জেলাগুলোর বিভিন্ন পরিবহন খুব সল্প সময়ে যাতায়াতের জন্য ও বঙ্গবন্ধু নেতুর উপরে চাপ কমিয়ে আনার লক্ষে নৌ-পথকে গুরত্ব দিয়ে চালু করা হলো এই ফেরি চলাচল।

নদী পথে এ সকল যানবাহনে পারাপারে জীবনের ঝুঁকি থাকলেও সড়ক ও সেতুপথে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয় এ সাধারণ যাত্রীদেরকে। যে কারণেই নিম্ন আয়ের মানুষেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রলারে নদী পার হচ্ছিলেন।

>> পাবনার নিয়মিত ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনটি চালু করুন। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন