সাহেদের আরও এক নতুন কেলেঙ্কারি উঠে এলো

রিজেন্টের চেয়ারম্যান শাহেদকে গ্রেফতার করতে দেশের সব জায়গায় অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব সদর দফরে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যাম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ।

এসময় আশিক বিল্লাহ জানান, শাহেদের মত প্রতারণায় অন্য যারা জড়িত তাদেরও আনা হবে আইনের আওতায়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘প্রতারণার জগতে শাহেদ আইডল। প্রতারণাকে কিভাবে ব্যবহার করে সরল সাধারণ মানুষের সাথে ঠকবাজি করে কিভাবে একটা পর্যায় আসা যায় তার অনন্য দৃষ্টান্ত শাহেদ।’

নতুন কেলেঙ্কারির কথা জানিয়েছেতিনি আরো বলেন, ‘নতুন করে অনেক অভিযোগই আমাদের কাছে আসছে, সর্বশেষ আমাদের কাছে যে অভিযোগ এসেছে রিজেন্ট কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক জাল সার্টিফিকেট দিয়েছেন শাহেদ। যাতে পালিয়ে যেতে না পারে এজন্য সারাদেশসহ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য পরিচয় দেয়া সাহেদ যাতে কোনোভাবেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়।  বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন সীমান্তেও সতর্ক ছিল আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে এর দুটি হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়। অভিযানের সময় রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক  ব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ আট জন কর্মীকে আটক করে র‌্যাব।

এরপর একে একে হাসপাতালে করোনাভাইরাস টেস্ট ও চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ ৩২টি মামলার আসামি রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ।

গ্রেফতারকৃতদের সকলেই হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেও  মূল অভিযুক্ত মো:শাহেদ এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গিয়েছিলেন। নানা প্রতারণায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের চার দিন পরও মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম গ্রেপ্তার এড়াতে পেরেছেন। এনিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।