সব কেন্দ্র দখল-জালিয়াতি, চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোট স্থগিত চায় বিএনপি

কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে চলছে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ।

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরেই ভোটগ্রহণ স্থগিত চেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান।

তার অভিযোগ, ‘১৭০টি কেন্দ্রের মধ্যে অলমোস্ট সব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটারদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। গোপন বুথে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা ভোট দিচ্ছে।’

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় নগরের নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন স্থগিত করে পুনরায় দিতে লিখিত আবেদন করেছি। কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আলোচনা করে সময় নিচ্ছি।’

আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এ সরকারের আমলে কোনও নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে না, তা আরও একবার দেখলো জনগণ। প্রত্যেক কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা অবস্থান নিয়ে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’

ধানের শীষের এই প্রার্থীর দাবি, ‘মোট ১৭০ টি কেন্দ্রের মধ্যে অলমোস্ট সব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটারদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। গোপন বুথে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা ভোট দিচ্ছে। এসব কারণে ভোট স্থগিত করে পুনরায় ভোটের আবেদন করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রতি কেন্দ্রে ৫০০-১০০০ লোক অবস্থান নিয়েছে। আপনারা দেখেছেন কিছু ছেলে লাইন ধরে ভোট দিচ্ছে। সেখানে বয়স্ক, মধ্যবয়স্কদের দেখা যায়নি। সেখানে সবগুলো দলীয় ও বাইরের ছেলে।’

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে এই ভোটগ্রহণ। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

চট্টগ্রামে বোয়ালখালী উপজেলা, মহানগরীর চান্দগাঁও ও বায়েজিদের কিছু অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন গঠিত। এই আসনে চার লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ জন ভোটার আছেন। এর মধ্যে দুই লাখ ৪১ হাজার ১৯৮ জন পুরুষ এবং দুই লাখ ৩৩ হাজার ২৮৭ জন নারী।

নির্বাচনে ৬ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমদ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক।