ক্ষমতা হস্তান্তর: প্রধান ইন, মিন্টু আউট (ভিডিওসহ)

নানা বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে শপথ গ্রহণের পর এবার ক্ষমতার চেয়ারে বসলেন পাবনা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান । বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌরসভা চত্বরে আলোচিত নির্বাচনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এই প্রার্থীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু।

একই সঙ্গে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর টানা দায়িত্ব পালন করা মেয়র কামরুল হাসান মিন্টুর বিদায় ঘটল। ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতা মিন্টু দলীয় সমর্থনে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ১/১১’র সময়ে সংস্কারপন্থি হওয়ার দল থেকে বহিষ্কৃত হোন মিন্টু। এরপরও ২০১২ ও ২০১৬ সালে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হোন।

দ্বিতীয়বারের মতো দল বদল করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া কামরুল হাসান মিন্টু এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তবে পরাজিত নৌকা প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন প্রয়াত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বকুলের এই শীষ্য।

দায়িত্ব হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, আব্দুর রহিম পাকন, দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু, প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি সুলতান আহমেদ বুরো, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু প্রমুখ।

এর আগে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নানা বাধা কাটিয়ে অবশেষে পাবনা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধানসহ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররা শপথ গ্রহণ করেন।

এর আগে নির্বাচনের দিনই বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেন নৌকার প্রার্থী আলী মুর্তজা বিশ্বাস সনি। কিন্তু জেলা নির্বাচন অফিস খারিজ করে দিলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রিট দায়ের করেন জেলা যুবলীগের আহবায়ক সনি।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হাসান হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ ফলাফল স্থগিত করে দিয়ে প্রাপ্ত ভোট আবার গণনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে থমকে যায় শপথ গ্রহণ।

এর ৪দিন পরেই ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের জবাবের পর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত ভোট পুনর্গণনা করতে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে দেন। ফলে শপথ গ্রহণ করতে সব বাধা কেটে যায়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) প্রশংসীয়ভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আলোচিত পাবনা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শরীফ উদ্দিন প্রধান মাত্র ১২২ ভোটে ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী মুর্তজা বিশ্বাস সনিকে পরাজিত করেন।

নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ উদ্দিন প্রধান পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৬৯ ভোট। আর নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সনি বিশ্বাস পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮৪৭ ভোট।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহম্মদ মাসুম বগা পেয়েছেন ৭ হাজার ৫০৪ ভোট। হাতপাখা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত আবু বক্কর সিদ্দীক পেয়েছেন ১ হাজার ৬৫৯ ভোট। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি মনোনীত চৌধুরী মোহম্মদ মাহাবুবুল হক পেয়েছেন ২৭৬ ভোট।

>> দায়িত্ব হস্তান্তরের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন অথবা পাবনা বার্তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রবেশ করুন এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।