পাবনায় লটারিতে ছেলেদের স্কুলে মেয়ের নাম! শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : লটারিতে ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও বহু কাংখিত পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না ছোট্র প্রিয়ন্তি তালুকদার (৯)। কিন্তু কার এত বড় ভুলে ভেস্তে যেতে বসেছে কোমলমর্তি এই শিক্ষাথীর ভবিষ্যত তা তদন্ত করে বের করার দাবী জানিয়েছে পাবনার সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির জন্য অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পুরন করেন প্রিয়ন্তি তালুকদারের বাবা ব্রজেশ থালুকদার। ব্রজেশ শহরের সুন্দরবন কুরিয়ারের কর্মচারী ও মা গোপা সরকার একজন গৃহিনী। প্রিয়ন্তি তাদের একমাত্র মেয়ে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভর্তি লটারিতে ছেলেদের স্কুলে তার নাম উঠেছে। স্থান পেয়েছে পাবনা জেলা স্কুলের তালিকায়।

লটারিতে ছেলেদের স্কুলে বালিকার নাম উঠায় বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। লটারীতে জেতার পর প্রিয়ন্তির বাবা মাও খুশি হন। কিন্তু তাদের সে আশার গুড়ে বালি। পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রিয়ন্তির বাবা মাকে সাফ জানিয়ে দেন এ বিষয়ে তাদের করার কিছুই নেই। বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হবেনা।

পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, এটি আমাদের কোন ভুল না। আবেদনকারীর অভিভাবকরা ভুল করতে পারেন। লটারীর পর আমাদের নির্ধারিত ২৪০ আসনের ছাত্রী ভর্তির জন্য তালিকা চুড়ান্ত হয়ে গেছে। কেউ ভর্তি না হলে অপেক্ষামান তালিকা থেকে ভর্তি করা হবে। কিন্তু প্রিয়ন্তির ভর্তির হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

পাবনা জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হুজ্জাতুল্লাহ বলেন, আমাদের স্কুলটি ছেলেদের জন্য। সেখানে মেয়েদের ভর্তির সুযোগ নেই। প্রিয়ন্তির নাম কি ভাবে তালিকায় এল তা একমাত্র মন্ত্রনালয়ই বলতে পারবেন। ছোট্র প্রিয়ন্তি তালুকদার সমকাল‘কে বলেন, লটারীতে আমার নাম উঠেছে। আমি পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই। প্রিয়ন্তির বাবা সুন্দরবন কুরিয়ারের কর্মচারী প্রজেশ তালুকদার বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, আমি একটি কম্পিউটার দোকান থেকে অনলাইনে ফরম পুরণ করেছি। সেখানে কোন ভুল ছিলনা। আমার মেয়ের নামও লটারীতে উঠেছে। তাই মেয়েকে ভর্তি করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান তিনি।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ভর্তির বিষয়ে কারো সঙ্গে কোন কথা বলছিনা। তবে প্রিয়ন্তির বাবা মা আমার কাছে এসেছিল। এটি আমাদের কোন ভুল নয়; তাই আমাদের করার কিছু নেই।

পাবনা নাগরিক সমাজের সভাপতি আব্দুল মতীন খান বলেন, যেহেতু লটারীতে নাম উঠেছে তাই প্রিয়ন্তির ভর্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এ জন্য জেলা প্রশাসনের একটি পথ বের করা উচিৎ। তা ছাড়া তদন্ত করে বের করা দরকার কার ভুলে এমনটি ঘটল।

এদিকে একই তালিকায় সুদীপ্তা সুন্দর সরকার নামের আরেকজন মেয়ে আবেদনকারীর নাম জেলা স্কুলের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা কেউ এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।