রুপপুর প্রকল্পের ২৩১ রাশিয়ান কর্মী করোনা আক্রান্ত

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে (আরএনপিপি) কর্মরত ২৩১ জন রাশিয়ানসহ ৩ হাজার বাঙ্গালী কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্ত রাশিয়ানদের মধ্যে ১৪৪ জন চারটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর বাংলাদেশি শ্রমিকরা নিজ বাড়ি ও ভাড়া বাসায় থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রকল্পের মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রূশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের প্রকৌশল শাখা এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (এএসই) মেডিক্যাল অ্যাডভাইজার (রাশিয়ান ডেস্ক) চিকিৎসক মোহাম্মাদ ফখরুল ইসলাম এবং ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এফএ আসমা খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

চিকিৎসক মোহাম্মাদ ফখরুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসেই প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানসহ এদেশীয় শ্রমিকদের করোনা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের ছুটিতে রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

বর্তমানে প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ রাশিয়ান কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে দুই ধাপে এক হাজার ৩০০ জনকে রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক-ভি টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে থেকেও ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে আরএনপিপিতে কর্মরত বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। গত দুথসপ্তাহ ধরে এদের মধ্যে থেকে কয়েকশত শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে ৪৫ ভাগই বর্তমানে সর্দি-কাশি, জ্বর আক্রান্ত এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। অনেকেই করোনা পজিটিভ হয়ে বাসা বাড়িতে রয়েছেন। আবার কেউ অফিস করছেন। চাকরীহারানোর ভয়ে বেশির ভাগই শ্রমিকই ছুটি নিচ্ছেন না।

ইতোমধ্যে রবিবার ঈশ্বরদী সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী মাথালপাড়ার গ্রামের জয়েন উদ্দিন খানের ছেলে প্রকল্পে কর্মরত আমিরুল ইসলাম (৫৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এর আগে একই ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বিপুল হোসেন (৪৭) নামের এক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এভাবে প্রায়ই প্রকল্পের শ্রমিকদের কেউ না কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছেন বলেও শ্রমিকরা দাবি করেন।

চিকিৎসক এফ এ আসমা খান জানান, ঈশ্বরদীতে করোনায় আক্রান্তদের এক তৃতীয়াংশই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঈশ্বরদীর বাইরে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকেই মারা যাচ্ছেন। এই কারণে মৃত্যুর সংখ্যা এই হাসপাতালে তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।