রাশিয়ানদের বেপরোয়া গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল ভ্যান চালকের, রাস্তা অবরোধ-যানজট

ঈশ্বরদীস্থ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত নিকিমথ কোম্পানির রাশিয়ানদের গাড়ির চাপায় আব্দুস সাত্তার মন্ডল (৬৫) নামের এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া-দাশুড়িয়া মহা সড়কের ঈশ^রদীর পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল (ক্লাবমোড়ে) এই দূর্ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মৃত সোনা মন্ডলের ছেলে।

এই ঘটনায় নিহতের আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে মিনিবাসের চালককে আটকসহ শাস্তি, ঘাতক মিনিবাসটি আটক ও হাইওয়ে পাকশী ফাঁড়ির অনিয়মের প্রতিরোধের  দাবীতে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে রাস্তায় অবস্থান করে। এতে রাস্তায় দুই পাশে ট্রাক, যাত্রীবাহি বাস, মাইক্রোসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েকশত যানবাহন আটকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে ঘটনাস্থলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির, ঈশ^রদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) আক্তারুজ্জামানসহ থানা, ইপিজেড ও রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতাকে ঘাতক চালককে গ্রেফতার ও মিনিবাসটিকে আটকের প্রতিশ্রুতি দেন।

 একই সঙ্গে হাইওয়ে পাকশী ফাঁড়ির ইনচার্জকে রাস্তায় আরো সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনতাকে শান্ত করে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোড়ের দোকানদাররা জানান, ঘটনার সময় সাত্তার মন্ডল রাস্তার বামপাশে নিচে ভ্যানটি থামিয়ে অপর পাশে আম কিনতে যায়। আম নিয়ে ভ্যানের নিকট আসার সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানদের বহনকৃত একটি দ্রুতগামী সিলভার রংয়ের (ঢাকা মেট্রো-১০১৪) মিনিবাস গ্রিনসিটিতে যাওয়ার পথে রং সাইড দিয়ে এসে পেছন থেকে চাপা দিয়ে সাত্তার মন্ডলের দেহকে প্রায় ৩০ গজ দুরে টেনে নিয়ে যায়। এতে মাথাসহ শরিরের বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তাঁরা অভিযোগ করে আরো জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প (আরএনপিপি) থেকে রাশিয়ানদের বসবাসকৃত গ্রিনসিটির দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। এই মহাসড়কটি খুবই ব্যস্ত। কিন্তু রাশিয়ানদের বহনকৃত গাড়িগুলো সব সময় বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় প্রায়ই ছোটখাট দূর্ঘটনাসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে মিনিবাসের চালকে গ্রেফতারসহ শাস্তি ও ঘাতক বাসটি আটকের দাবীতে রাস্তায় প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে অবস্থান করেন।

পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ( পরিদর্শক) আক্তারুজ্জামান আক্তার জানান, লাশ উদ্ধার করে থানার মাধ্যমে হাইওয়ে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির জানান, দূর্ঘটনায় নিহতের আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। এই কারণে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘাতক চালককে ও মিনিবাসটিকের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করা হয়। মিনিবাসটি রাশিয়ান কোম্পানি নিকিমথের বলে জানা গেছে। চালক পলাতক। মিনিবাসটি আটক করার প্রচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হাইওয়ে পাকশী ফাঁড়িকে রাস্তায় আরো সহনশীল হওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।