যেভাবে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ গ্রেফতার

অবশেষে বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান  মো. সাহেদ করিমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব)।

তাকে র‍্যাবের আভিযানিক দলের সঙ্গে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় আনা হচ্ছে।

আজ বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) সুজয় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, বুধবার ভোরে র‌্যাবের একটি বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়।

সাহেদকে গ্রেফতারের সময় প্রত্যক্ষদর্শী কোমরপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, আজ ভোরে আমরা যখন ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়েছি তখন দেখলাম বেইলি ব্রিজের ওপারে র‌্যাবের তিনটি গাড়ি এসে থামলো। এরপর র‌্যাব সদস্যরা চিৎকার করে বলতে থাকেন এই পেয়েছি। ধর ধর। এ সময় আমরা সবাই এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেলাম তারা সাহেদকে ধরে ফেলেছেন। পরে তারা তাকে ব্রিজ পার করে এপারে নিয়ে আসেন। এপারে নদীতে একটি নৌকা আছে। সাহেদ তার স্বীকারোক্তিতে র‌্যাবকে বলেছে এই নৌকাতে করেই নদী পাড়ি দিয়ে তার ভারতে চলে যাওয়ার কথা ছিল।

তিনি ওই ব্রিজের পাশে একটি ছোট ড্রেন দেখিয়ে বলেন, ওইখানে একটি নর্দমার মতো রয়েছে। সেই ড্রেনের ভেতরে বোরকা পরে শুয়ে ছিলেন প্রতারক সাহেদ। শোয়া অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তার পরণে শার্ট, প্যান্ট ও বোরকা ছিল। আর তার কোমরে ছিল একটি পিস্তল। পরে র‌্যাব উপস্থিত জনতার সঙ্গে কথা বলে ও ছবি তুলে তাকে এখান থেকে নিয়ে যায়।

সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে টাকার বিনিময়ে করোনা ভাইরাস শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ করা এবং ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগ গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে মামলা করে। সেই মামলায় ৮ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেফতার হলেন সাহেদ করিম।

এর আগে রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।