যেভাবে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

নিজ বাসায় কোয়ারান্টিনে থাকলেও স্কাইপিতে ছেলে, দুই পূত্রবধু ও নাতনীদের কথা বলছেন, কাছে আছেন ভাই-বোনেরাও। অনেক দিন পরে পরিবারের সান্নিধ্যে হাসি-খুশি সময় পার করছেন বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে খুশি আছেন তিনি।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার পরিবার সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন সদ্য কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজায় তিনি আগামী ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

কোয়ারেন্টিন চলাকালে তিনি কোনও নেতাকর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। ফলমূল ছাড়া বাইরের কোনো খারার তিনি খাচ্ছেন না। তাই তাঁর খাবারও বাড়িতে রান্না হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বোনেরা নিজ বাসা থেকে তাঁর পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে এনেছিলেন। খালেদা জিয়ার কখন কি খাবেন তার খেয়াল রাখছেন, বোন সেলিমা ইসলাম। আর আগের মতো সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। আপাতত কয়েকটা দিন ডাক্তার ছাড়া বাইরের লোক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ নিষেধ থাকার কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করছেন না তিনি। সিনিয়র নেতারা খোঁজ রাখছেন মুঠোফোনে।

সেলিমা ইসলাম জানান, বাড়িতে আসার পর থেকেই তিনি অনেক খুশিতে আছেন। দলীয় কোন কথা তোলেননি এখনও। তাকে ফ্রেশও লাগছে। ২ বছর পরে পরিবারের সবাইকে পেয়ে অনেক খুশি হয়েছেন উনি। যেদিন বাসায় এলেন রাতে খেয়েছেনও সবার সঙ্গে বসে। ঘুমিয়ে পড়ছেন ১০টা বাজতেই। ভোরে উঠে নামাজ আদায় করছেন। তার অভ্যাসগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান সেলিমা ইসলাম।

তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত ছেলের বৌ ডা. জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় ডাক্তাররা তার দেখভাল করবেন। চিকিৎসার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হলে তাঁর (ডা. জোবাইদা) পরামর্শে নেয়া হবে।

এছাড়া তার চিকিৎসা বোডের ডাক্তাররা নিয়মিত চেকআপ করছেন। বুধবার তাকে দেখে গেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএফ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জোবায়দা রহমানের সঙ্গে কথা বলে, গত বুধবার রাতে নতুন প্রেসক্রিপশন করে চিকিৎসা শুরু করেছেন। তবে এই মুহূর্তে একেবারে নতুন কোনও চিকিৎসা তারা শুরু করতে চান না। কারণ, হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হলে তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে দরকার হলে নতুন চিকিৎসা শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক  ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, কোয়ারান্টাইনে থাকা অবস্হায় নতুন চিকিৎসা শুরু করা যাবে না। তাছাড়া তার পূবের ঔষধের কোস শেষ হলে পরীক্ষা -নিরিক্ষার পরে বোঝা যাবে তাকে কোন ধরনের চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। 

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সাত্তার বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি সবার কাছে নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পরেই সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানিয়েছেন। নেতাকর্মীদের তার বাড়ির সামনে ভিড় না করতেও তিনি অনুরোধ করেছেন।

এদিকে গুলশান সূত্র জানায়, শনিবার খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেয়ার জন্য ‘ফিরোজা’তে প্রবেশ করেন।