পাবনায় সাড়া ফেলেছে মৌ-বাক্সে মধু চাষ , চাহিদা মিটিয়ে হচ্ছে রপ্তানিও

মধু, যার ভেষজ গুণ নিয়ে বিস্তর ইতিহাস। শুধু ভেষজ হিসাবেই নয়, মধুর রয়েছে আরো অনেক ধরনের উপকারিতা। গোটা দুনিয়ার মানুষের কাছে মধুর রয়েছে বিশেষ কদর।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর মধু পাওয়া গেলেও, সাম্প্রতিক কালে মধু চাষ বেড়েছে বহু গুণে। দেশের বিভিন্ন ঋতুচক্রে মেলে বিভিন্ন ধরনের মধু। এরমধ্যে সরিষা ফুলের মধুর কদর বেশ।

চাহিদা বেশি থাকায় পাবনায় সরিষার ক্ষেতের পাশে আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি করা মৌ-বাক্সে মধু চাষ করা হচ্ছে। মৌ-বাক্স বসিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে সাড়া পড়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় শতাধিক মৌ খামারি সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছেন। সংগৃহীত মধু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও হচ্ছে।

বিস্তৃত মাঠ যেনো হলুদ সরিষার চাদরে ঢাকা। ফুলে ফুলে নেচে বেড়ায় মৌমাছি। সেই মৌমাছি এসে বসে বিশেষভাবে নির্মিত খাঁচায়। তাতে জমে সরিষা ফুলের মধু ভরা মৌচাক।

পাবনার সুজানগর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপর ও আটঘড়িয়া উপজেলায় বিল অঞ্চলের সরিষার ক্ষেতের পাশে বসেছে মধু সংগ্রহের খাঁচা। কৃষি বিভাগের ৭০ জন তালিকাভুক্ত খামারিসহ ব্যক্তি উদ্যোগ মিলে প্রায় শতাধিক মৌ খামারি মধু সংগ্রহের কাজ করছে।

মৌ চাষিরা জানায়, অন্য যেকোনো আবাদের চেয়ে সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম লাগে। তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। এবার সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি খাঁচায় মধু চাষের ফলে পরাগায়ণ বাড়ে। সরিষার ফলনও বাড়ে আগের চেয়ে। এতে করে তারা লাভবান হচ্ছেন।

এ বছর সরিষার ফলন ঘরে তোলার আগেই মধু উৎপাদনে বাড়তি আয়ের রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন কৃষকরা। সরিষা জমিতে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

মৌ চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহে স্বাবলম্বী হওয়ার মুখও দেখছেন অনেকেই। মধু চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ। সরিষা ক্ষেতের পামে হাজার হাজার মৌ-বাক্স দিয়ে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে মৌ-বাক্স খুলে দেয়া হয়। মৌমাছির দল সারাদিন মধু নিয়ে বিকালে বাক্সে ফেরে তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ৫,৮৭৫টি মৌমাছির বাক্স বসানো হয়েছে। মধু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ মেট্রিক টন। বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

সরিষা ফুলের মধু তিন থেকে চারশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি মৌ বাক্সে ৬-৭ হাজার মধু সংগ্রহকারী মৌ থাকে। প্রতি সপ্তাহে একবার করে খাঁচা থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।

………………………………>
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং পাবনার খবরাখবর রাখুন