জুমাতুল বিদায় পাবনার মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তি কামনায় পাবনায় পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও রোদকে উপেক্ষা করেই শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) পবিত্র এই জুমায় মুসল্লিদের ঢল নেমেছিল।

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা হিসেবে প্রতিবছর পালন করেন মুসলমানরা। রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখা আর ইবাদত-বন্দেগির অংশ হিসেবে এদিন নাজাত প্রার্থনা করেন সবাই।

এর আগের দুই বছরের করোনাভাইরাসের কারণে বিধি নিষেধ ছিল। তাই মানুষ গত দুই জুমাতুল বিদায় তেমন উপস্থিতি ছিল না। এবার বিধিনিষেধ না থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের বাধ ভাঙা ঢল নামে।

জুমার আজানের পর পাবনার চাপা মসজিদ, আওরঙ্গজেব রোড মসজিদ, আলি মাদ্রাসারা মসজিদ, বাশবাজার মসজিদসহ শহরের সব মসজিদে নামাজে আজ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শহরের চাঁপা মসজিদে সরেজমিন দেখা যায়, আজানের আগেই মুসল্লিরা উপস্থিত হোন। আজানের পরপরই মুসল্লিদের ঢল নামে। প্রথম তলা, দ্বিতীয় তলা, তৃতীয় তলা, চতুর্থ তলে ছাড়িয়ে মুসল্লিরা অবস্থান নেন ছাদে। ছাদেও জায়গা সংকট দেখা দিলে সিড়িতে ও রাস্তায় নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

জুমাতুল বিদার খুতবায় উচ্চারিত হয় ‘আলবিদা, আল বিদা, ইয়া শাহর রামাদান। অর্থাৎ বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। নামাজ শেষে পাবনাসহ গোটা দেশ ও জাতির সুখ, সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দোয়া করা হয় বছরের বাকি দিনগুলোতে যেন পাপ ও অকল্যাণ থেকে মুক্ত থাকা যায় সেজন্য। নামাজ আদায়ের পর পাবনার আরিফপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থাসহ বিভিন্ন কবরস্থানে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।