ভাই হত্যার বদলায় প্রেমিকা সেজে হত্যা!

সাত বছর আগে ছোট ভাইকে অপরহণ করে হত্যা করেন ইমরান। ঘটনার সময় ইমরান কিশোর হওয়ায় গ্রেফতারের পর পাঠানো হয় কিশোর সংশোধনাগারে। ভাই হত্যার আসামির কঠোর সাজা না হওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন বড় ভাই নবীন। এরই মধ্যে সংশোধনাগার থেকে মুক্ত হয়ে ইমরান বাড়ি ফেরেন। মাঝে মধ্যে নবীন ও ইমরানের দেখা হলেই হত্যার ঘটনায় উস্কানিমূলক মন্তব্য করে ইমরান।

ইমরানের তীর্যক মন্তব্যের পর তাকে হত্যার পরিকল্পনা নেয় নবীন। সেই পরিকল্পনায় নারীর কণ্ঠে ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন নবীন। প্রেমিকার পরিচয়ে ডাকা হয় ইমরানকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে আসলেই বন্ধু আলাউদ্দিনের সহযোগিতায় হত্যা করা হয় ইমরানকে। পাবনার বেড়ার উপজেলার আলহেরা নগরী এলাকায় ইমরান (২২) নামের যুবক এই হত্যাকাণ্ডের এমন রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় বেড়া পৌর এলাকার স্যানাল পাড়ার মো. আব্দুল মাজেদের ছেলে মো. আজাদুর রহমান নবীন (২৪) এবং মো. মালেক মোল্লার ছেলে মো. আলাউদ্দিনকে। (২০)। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কথা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নবীন ও আলাউদ্দিন। বুধবার (৩০ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ইমরানসহ আরও তিনজন নবীনের ভাই আরাফাতকে অপহরণ করে হত্যা করে। সেই মামলায় ইমরান প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর যশোর কিশোর সংশোধনাগারে থাকার পর প্রায় ৮/৯ মাস পূর্বে বের হয়ে আসে। মাঝ্যে মধ্যে নবীন ও ইমরানের দেখে হলে “কি করতে পারলি” বলে নবীনকে তির্যক মন্তব্য করে।

ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই নবীন কৌশলে ইমরানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ রে মেয়ে কন্ঠে প্রায় তিন মাস ইমরানের সাথে প্রেমের অভিনয় করে। ২৫ মার্চ আসামি নবীন কক্সবাজার হতে নারায়নগঞ্জে আলাউদ্দিনের কাছাকাছি আসে। পরিকল্পনা মাফিক তারা দুইজন নারায়নগঞ্জ হতে একই তারিখে বেড়া থানা এলাকায় আসে ও নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কৌশলে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে এবং হত্যাকাণ্ডের ব্যবহারের জন্য ২টি ছুরি ক্রয় করে।

তিনি জানান, ঘটনার দিন ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার সময় আজাদুর রহমান নবীন পূর্বপরিকল্পনা মাফিক ইমরানকে মেয়ে কন্ঠে প্রেমিকার অভিনয় করে আলহেরা নগরে নিয়ে আসেন। ইমরান তিনটি চিপসের প্যাকেট নিয়ে তার কথিত প্রেমিকার বাড়ির সামনে আসতেই পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা নবীন এবং আলাউদ্দিন তাকে জাপটে ধরে রাস্তার পাশে ঘাসের ক্ষেতে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। ইমরান ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করলে নবীন ও আলাউদ্দিন ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মৃত দেহটি মাঠের মধ্যে ফেলে রেখেই পালিয়ে যান তারা।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) জড়িত আজাদুর রহমান নবীন ও মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর বুধবার (৩০ মার্চ) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৭ মার্চ) সকালে বেড়া পৌর এলাকার সান্যালপাড়ার আল-হেরা নগরের কৃষি জমি থেকে ইমরান হোসেনের (২৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইমরান হোসেন বেড়া উপজেলার করমজা গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার ছেলে এবং পৌর এলাকায় ফুটপাতে বাবার সঙ্গে কাপড় বিক্রি করতেন।