১৫ জুনও হচ্ছে না পাবনার আলোচিত ভাঁড়ারা ইউপি নির্বাচন

আগামী ১৫ জুন সারা দেশে ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এদিনও দেশব্যাপী বহুল আলোচিত পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক স্বতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহত হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত আছে।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে কুমিল্লা সিটি, ছয় পৌরসভা ও ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

তফসিল ঘোষণার পরপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাঁড়ারা ইউপিতে ১৫ জুন ভোট হচ্ছে- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এবিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ভাঁড়ারার নাম নেই।

এবিষয়ে তথ্য দিতে পারেনি পাবনার নির্বাচন অফিসও। পাবনার পাবনার সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার কায়সার আহমেদ পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, আমরা (নির্বাচন অফিস) কোনও চিঠি পাওয়ানি। তাই নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খান (৫২) ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম (৩৫) নিহত হন। এঘটনায় ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পাবনা জেলার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সব (চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য) পদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সকালে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (ঘোড়া মার্কা) সুলতান মাহমুদের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় সুলতান মাহমুদের চাচাতো ভাই আনারস প্রতীকের আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপার্থী ইয়াসিন আলমসহ ২০ জনকে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে সাঈদের লোকজন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহী নেওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়া গুরুদাসপুর পৌছালে মারা যান ইয়াসিন আলম।

এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহতের ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন আবু সাঈদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যান। বিভিন্ন ঘটনায় পাবনার আলোচিত এই আওয়ামী লীগ নেতাকে ৩১ জানুয়ারি কারাগারে পাঠান পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান।