পাবনায় গুঁড়িয়ে দেয়া হলো আ.লীগ নেতার সেই ভবনসহ ১০টি ভবন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবুল কালাম আজাদের সেই দোতলা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও একই সময়ে আরও ৯টি ভবন গুরিয়ে দেয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান এ অভিযান চালান। অভিযানের প্রথম দিনে ১০টি ভবন ভাঙা হয়।

পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের ভাঙ্গুড়া ও শরৎনগর বাজারে রেলওয়ের প্রায় ৫০ বিঘা জমি আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন। দখল করা ওই জমিতে অবৈধভাবে দোকান, বিপণিবিতান এবং দোতলা ও তিনতলা প্রায় ৫০টি ভবন নির্মাণ করেছেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই রেল কর্তৃপক্ষ এসব ভবন সরিয়ে নিতে নোটিশ দেয়। কিন্তু ভবনমালিকেরা কোনো অবস্থায়ই ভবন ভাঙছিলেন না। ফলে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

মো. নুরুজ্জামান বলেন, শুধু ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরেই রেলওয়ের জমিতে ৫০টি অবৈধ ভবন রয়েছে। অভিযানের প্রথম দিন ১০টি ভবন ভাঙা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার কেউ রেলওয়ের জমি দখলের চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকালে এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) নিয়ে ভাঙ্গুড়া বাজারে উপস্থিত হয় অভিযান চালানো দল। প্রথমেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবুল কালাম আজাদের দোতলা ভবন ভাঙার মধ্য দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

আজাদ ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহর ছোট ভাই। রেলের উচ্ছেদ নোটিশ উপেক্ষা করে গত সপ্তাহে তিনি ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই দেন। এই ভবনটি ভেঙে ফেলায় অন্য দখলদারেরা চুপসে যান। পরে একে একে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রউফ, নুরুজ্জামান, আবুল কাশেম, গোলাম মোস্তফার ভবনসহ মোট ১০টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।