বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা হয়নি! ফেসবুকের ফল অসমর্থিত: ইসি

দেশব্যাপী আলোচিত পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ঘোড়া প্রতীকের মো. সুলতান মাহমুদ খান বিপুল ভোটে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে ফেসবুকের এই ফলাফল সম্পর্কে অবগত নয় বলে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানিয়েছেন ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার কায়সার মোহাম্মদ।

রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার কাছে মাত্র কেন্দ্র কেন্দ্র থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা আসতে শুরু করেছেন। এখনও ফলাফল এসে পৌঁছায়নি। তাহলে ঘোষণা হলো কিভাবে? ফল ঘোষণা করতে সময় লাগবে।

বিকেল ৫টার দিকে বিভিন্ন পেসবুক পেজ ও গ্রুপ ফলাফল ঘোষণা করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিভিন্ন পেসবুক পেজ ও গ্রুপ মো. সুলতান মাহমুদ খান বিপুল ভোটে ঘোষণা করা হয়। এতে বিভিন্ন পেসবুক পেজ ও গ্রুপে জয়ের ব্যবধান ভিন্ন দেখা গেছে। তবে পাবনা বার্তা অসমর্থিত সূত্রে কিছু ফলাফল পেয়েছে, তাতে মো. সুলতান মাহমুদ খান এগিয়ে রয়েছে।

এর আগে বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত এই ভোটগ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। পুরুষ ও নারী উভয় ভোটারদের ছিল লম্বা লাইন। নানা শঙ্কার মধ্যেও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তারা উচ্ছাস প্রকাশ করেন।

এদিকে ভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে গোটা ভাঁড়ারা ইউনিয়ন। ৫ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সন্দেহভাজনদের করা হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো।

গত ডিসেম্বরে প্রচারণাকালে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনায় আসে ইউনিয়নটি। ফলে এবার ভাঁড়ারার দিকে তাকিয়ে পাবনাবাসীসহ গোটা বাংলাদেশ, তাই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। স্মরণকালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে গোটা ভাঁড়ারা ইউনিয়ন জুড়ে।

আতঙ্কের জনপদ খ্যাত এই ইউপিতে ৩৮ হাজার ২শ ৫৭ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ১৮ হাজার ২৯৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ৯৬৪ জন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন ২ জন প্রার্থী। আর ৯টি সাধারণ ও ৩টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৩ জন, এর মধ্য নারী সদস্য পদে ১৩ জন এবং পুরুষ সদস্য পদে ৪০ জন প্রার্থী। এই ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৬টি, বুথ রয়েছে ১০৪টি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খান (৫২) ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম (৩৫) নিহত হন। এঘটনায় ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সব (চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য) পদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরে গত ২৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন থেকে ১৫ জুন ভোটগ্রণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়।