বেরিয়ে আসল সাহেদের নারী কেলেঙ্কারির নানা অজানা গল্প

শুধু প্রতারণা নয়, সাহেদের বিরুদ্ধে শত শত  নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। স¤প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের ঘটনার পর একে একে সব কিছু বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। অনেকে মুখও খুলছে এখন।

নারী কেলেঙ্কারিতে শীর্ষে ছিল সাহেদ, সাহেদ একজন শুরু প্রতারকই নয়, বড় ধরনের নারীলোভী ব্যক্তিও ছিল। তার নারী কেলেঙ্কারির কথা অফিসের সকলে জানতেন। কিন্তু কেউ মুখ খুলতেন না।

সাহেদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রতি অফিসে নারীদের বেতন আটকে রাখত এবং তাকে দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে বাধ্য করত। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে তার দায়িত্বে থাকা পিএসদের সে ভোগ করত। এই বিষয়গুলো ছিল তার সহকর্মীদের কাছে ওপেন সিক্রেট বিষয়। তার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন সহকর্মী জানিয়েছেন, সাহেদকে মূলত একজন মহিলা নারী সরবরাহের কাজ করত।

কে অক্ষরের ওই নারীর নামে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় একটি ম্যারেজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানা গেছে। এই কে অক্ষরের নারী তাকে বিভিন্ন ধনাঢ্য পরিবারের নারীদের নাম্বার সংগ্রহ করে দিত। আর তা সাহেদের কাছে ৫-৭ হাজার টাকায় বিক্রি করত। পরে সাহেদ সেসব নাম্বারে কথা বলে প্রেম জমাত।

সুযোগ বুঝে সেসব নারীকে বিছানায় এনে অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল সাহেদের মূল কাজ। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের জ অক্ষরের এক যুবক তার কাছে তদবির ও নারী নিয়ে আসত। গাজীপুরে যত মেলা, যাত্রাপার্টি ও জুয়া চলত তা সাবেক এসবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে দিত এই সাহেদ। গাজীপুর থেকে জুয়া, যাত্রাপার্টি চালানোর ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে নিয়ে আসার কাজটি মূলত জ অক্ষরের যুবক করত। পরে এসবির সাবেক ওই কর্মকর্তাকে অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের দায়ে দুদক ডেকেছিল বলে জানা গেছে।

সাহেদের কাছে ভোগের বস্তু ছিল তার পিএস নারীরা। প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর সাহেদ পিএস বদলাত। তাদের বেড়ানোর কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে যেত। সেখান থেকে ঘুরে আসার পরই সে সেই পিএস আর রাখত না। জানা গেছে, নারী পিএসদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখত বলে তার স্ত্রী সাদিয়া আরবী রিম্মির সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিল না।

ম অক্ষরের এক পিএসকে সে তার প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর ফিন্যান্স বানিয়ে দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করত। বিষয়টি জানতে পেরে ধানমন্ডির অফিসে এসে তার স্ত্রী ঝগড়া বাধিয়ে দেয়। আর এসব বিষয় জানিয়েছেন তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কাজ করা সহকর্মীরা।

শুধু কি তাই, ব অক্ষরের এক নারী পিএস একবার গর্ভবতী হয়ে পড়লে ওই নারী সাহেদকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সাহেদ তাকে উত্তরার রিজেন্ট কেসিএসের অফিসে ডেকে মারধর করে এবং তাকে গর্ভপাত করাতেও বাধ্য করিয়েছিল বলে সেই সময়কার তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

সহকর্মীরা আরও জানিয়েছেন, ম অক্ষরের এক পিএসের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করেও তাকে দুই মাসের বেতন বকেয়া ফেলায় ওই নারী উত্তরার একটি রোডে চিৎকার করে সাহেদকে গালাগালি করতে থাকেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে সাহেদ তাকে ব্যাংকের চেক দিতে বাধ্য হয়েছিল। আরেক নারী গর্ভবতী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করতে গেলে ওই সময়ে পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তার সাবেক কর্মীরা।

সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সাহেদ মূলত নারীদের ঢাকার বাইরে নিয়ে ভোগ করত। নারীদের সাজেক, কক্সবাজার, খুলনা খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় রেজা ফকিরের বাড়িতে ও কক্সবাজারের সিগাল ও সায়মন হোটেলে উঠত। ওইসব হোটেলে গিয়ে নানা ফাঁপরবাজি করত। এ ছাড়াও সাহেদ বিভিন্ন সরকারি সার্কিট হাউসে প্রধানমন্ত্রীর সিপিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকত এবং সেখানকার কর্মচারীদের পরিচয় দিয়ে বলত, আমি কিন্তু সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তি। এই কথা শুনেই তাকে সকলে সম্মান করতেন।

এসব নারীর পাশাপাশি গুলশান থানা এলাকার সাবেক একজন ডিআইজির স্ত্রীর সাথে তার পরকীয়া ছিল। যা তার কর্মীদের সকলে জানত। কিন্তু কাছের লোকেরা প্রকাশ করত না। রিজেন্ট হাসপাতাল করার সময় সে মহিলা সাহেদকে ১ কোটি টাকা দেন।

এ ছাড়াও সে নারীর ব্যবহৃত টয়োটা ভ্যানগার্ড গাড়ি দীর্ঘদিন সাহেদ ব্যবহার করেছিল বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। মাঝে মাঝে লং ড্রাইভে যেত সাহেদ। এই নারীর পাশাপাশি উত্তরা থানার পাশে থাকা বিমানের এক এয়ার হোস্টেজের সাথেও তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মীরা।