বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের মৃত্যুতে দিশেহারা মা, বোনের লেখাপড়া বন্ধে পথে

রেজা নাবিল
জীবন নদীর সমস্ত উথালপাতাল ঢেউ পার করে তীরে এসেই ডুবে গেলো শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও স্বামী হারা জননীর একমাত্র সম্বল আশিকের জীবন তরী। স্কুল ঝাড়ু দিয়ে ও বিভিন্ন জনের হতে সাহায্য নিয়ে অতি কষ্টে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন দুঃখিনী মায়ের আদরের একমাত্র ছেলে আশিককে। লেখাপড়া প্রায় শেষের দিকে কষ্টের পসরা উঠিয়ে সুখের পাল তোলার সময় ঘনিয়ে আসার মুহুর্তে হঠাৎ ছেলে আশিকের অকাল মৃত্যুতে তাদের ভাগ্যাকাশে পরিলক্ষিত হলো কালো শোকের পতাকা। এ শোকের বোঝা না সইতে পেরে বিছানাগত সন্তানহারা মা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর ছেলের টিউশনির দ্বারা উপার্জিত আয়েই চলতো একমাত্র বোনের লেখাপড়া ও তাদের সংসা।  করোনার এ কালে তার অকাল মৃত্যুতে বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। লেখাপড়া বন্ধের হুমকিতে পড়েছে মৃত আশিকের বোনের।

মৃত আশিকের শোক সন্তপ্ত বোন বলেন, একটা পরিবারের বড়ছেলে বা বড়ভাই হলো বটগাছের ছায়ার মত। আজ সে ছায়া আমাদের ওপর নেই। আমার আবদার জানানোর মত ওই একটি ভাই ই ছিলো তার কাছেই সব আবদার করতাম আগামীতে সে সুযোগ আমার নেই। আমি এবার মাধ্যমিক(এসএসসি) পরীক্ষায় মেধাভিত্তিক তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছি। সামনে কলেজে ভর্তি হবার কথা। সে সুযোগ বুঝি আর হলো না।

আশিকের বাল্যবন্ধু হৃদয় বলেন, বন্ধ হিসেবে কোন জটিল মানুষিকতা ওর মধ্যে কখনো দেখিনি। স্কুল পড়াকালীন সময় বাবা মারা যাওয়ার পর অসম্ভব কষ্টে লেখাপড়া চালিয়েছে আশিক। আর কিছু সময় গেলেই হয়তো সুখের ছোঁয়া পেত, কিছুটা স্বস্তি মিলতো দুঃখী মায়ের। সেটা আর হলো না। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো ওর মা ও বোনকে কে দেখবে?

বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠী জনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সবেচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলো আশিক। দিনের অধিকাংশ সময় দুজনে কাটিয়েছি। ওর মধ্যে সর্বোচ্চ সরলতা দেখেছি। লেখাপড়ায় ছিলো অদমাই ইচ্ছা। ওর এমন মৃত্যুতে আমি সত্যিই শোকাহত।

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের দ্বীরচর মোল্লা পাড়া গ্রামের গরীব দিনমজুর কালাম মোল্লার একমাত্র ছেলে আশিকুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার ব্যাপারে বেশ দীপ্ত প্রতিভাবান বলে পরিচয় দিয়ে এসেছে আশিক। দশম(১০ম) শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে বাবা কালাম মোল্লার মৃত্যু হলে লেখাপড়া বন্ধ হবার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন সময় সংসার চালাতে তার মা বেছে নেয় স্কুল ঝাড়ুদারের পেশা। চরম দারিদ্রতায় দিনপাত করতে থাকে তারা। আর্থিক দারিদ্রতাকে পাশ কাটিয়ে ২০১৫ সালে নিজ গ্রাম দ্বীপচরস্থ দ্বীপচর ইউনুস আলী স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মেধাভিত্তিক তালিকায়(জিপিএ ৫) উত্তীর্ণ হয়ে পাবনা শহরস্থ সরকারি শহিদ বুলবুল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয় মৃত আশিক। সেখান থেকে ২০১৭ সালে একই বিভাগ থেকে একই মেধায়(জিপিএ ৫)  উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্নজনের থেকে সহায়তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি শেষে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধায় তালিকাভুক্ত হলেও অবশেষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টি ৭৭তম ব্যাচে ভর্তি হয়ে বরাবরের ন্যায় প্রথম বর্ষে উভয় সেমিস্টারেই প্রথম শ্রেণীতে ফলাফল অর্জন করে। মৃত্যুকালীন সময়ে সে ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলো।

উল্লেখ্য গত সোমবার(৮ই জুন) দুপুর ২টায় ব্রেন স্ট্রোক মারা যায় আশিক। আগেরদিন রাতে হঠাৎ মাথা ব্যাথা ও বমি হলে সকালে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। তাকে নিয়ে রাজশাহীর উদ্দ্যেশে রওনা হলে পতিমধ্যে মৃত্যু হয়। মৃতাবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য মৃত আশিকের পরিবারকে সহায়তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী,  স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা
মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
যোগাযোগথথ
বিকাশ= ০১৭৯৮২২৫৮১৪
(মৃত আশিকের পরিবার)
ডাচবাংলা ব্যাংক একাউন্ট= ১৪৮১০৫০১৮১২৯
(মাহবুব হাসান সম্রাট-৭২তম ব্যাচ)
ডাচ বাংলা মোবাঃ একাউন্ট= ০১৭৩৮৩০৬৭১৭১
(গৌতম দাস রনি- ৭৫তম ব্যাচ)
বিকাশ=০১৬৪৫৯১৩৩৪৭
(সাব্বির সোহান- ৭৫তম ব্যাচ)