পাবনায় স্কুল বন্ধ ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের সম্মেলন

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লোকসমাগমের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এমন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই বড় ধরনের লোকসমাগম ঘটিয়ে সম্মেলন করলো পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী সরকারি ভাঙ্গুড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ত্রিবার্ষিক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। তাদের বেশিরভাগের মুখেই ছিল না মাস্ক। আর সম্মেলনস্থলেও ছিল না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো নির্দেশনা।

সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-৩ আসনের সাংসদ মো. মকবুল হোসেন এবং পাবনা-২ আসনের সাংসদ আহমেদ ফিরোজ কবিরসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

স্কুল বন্ধ ও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে খোদ ক্ষমতাসীন দলের এমন আয়োজন সমালোচনার জন্ম দিলেও স্থানীয় নেতারা বলছেন, স্থানীয় সাংসদ মকবুল হোসেনের ছেলে ভাঙ্গুরা পৌরসভার মেয়র গোলাম হসনায়েন রাসেল সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ায় তার তাগাদাতেই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান প্রধান বলেন, ‘বিধিনিষেধের কারণে আমরা সম্মেলন আয়োজনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেনের ইচ্ছাতেই কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনের নির্দেশনা দেয়। ফলে সম্মেলন করা ছাড়া উপায় ছিল না।’

এবিষয়ে সাংসদ মকবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, ‘এটা যেহেতু আওয়ামী লীগের সম্মেলন তাই সেখানে ভিআইপি ব্যক্তি অতিথিসহ বিপুল মানুষের উপস্থিতি ঘটবে। এমন অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় তাই বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের বার্ষিক যে তিন দিন ছুটি সংরক্ষিত রয়েছে সেখান থেকে একদিন কাটা হবে।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিস্তারিত বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও বার্ষিক ছুটির দিন থেকে আজকের দিনটা ছুটি হিসেবে কাটা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম।

………………………………>
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং পাবনার খবরাখবর রাখুন