বাধ্য হয়ে ফুটপাতে পাউরুটি, বিস্কুট বিক্রি করছেন সংগীতশিল্পী

লকডাউনে কাজ নেই। অতঃপর আয়ও বন্ধ। তাই সংসার চালাতে ফুটপাতে দুধ, পাউরুটি, বিস্কুটের দোকান দিয়েছেন কলকাতার তরুণী সংগীতশিল্পী। রোজ সকালে হাতিবাগান হরি ঘোষ স্ট্রিটে ট্রাম লাইনের পাশের ফুটপাত বরাবর হেঁটে গেলেই চোখে পড়বে সেই সংগীত শিল্পীর দোকান।

চলতি লকডাউন যে অনেককেই বেকার, বেরোজগার করে তুলেছে, তা বোধহয় আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না! কর্মহীন হয়ে অনেকেই আবার অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছেন। কেউ ফলের দোকান দিয়েছেন আবার কেউ বা সবজি বিক্রি করছেন। দিন কয়েক আগেই সংসারের অভাব মেটাতে এক সংগীতশিল্পী নিজের শখের গাড়ির ছবি দিয়ে ড্রাইভারি করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। সেরকমই আরেক সংগীতশিল্পীর খবর পাওয়া গেল, যিনি কিনা পেটের দায়ে এখন রাস্তায় দুধ, পাউরুটি, বিস্কুটের দোকান দিয়েছেন।

বছর চব্বিশের নিলিশা বসাক, স্নাতকোত্তীর্ণ হয়ে সংগীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কলকাতার পাশাপাশি শহরতলির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতানোর জন্য ডাক পড়ত নিলিশার। বাদ ছিল না জেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিও। শীতকাল এলেই বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রাম করতে যেতেন। তবে লকডাউনে সংক্রমণ এড়াতে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অতঃপর বন্ধ সমস্ত অনুষ্ঠান। তাই নিলিশারও কোনো রোজগার নেই। সংসারের অর্থাভাব মেটাতে তাই সকাল ৬টায় থেকে শুরু হয় তার সংগ্রাম।

হরি ঘোষ স্ট্রিটের ফুটপাতে নিলিশা পসার সাজিয়ে বসেন দুধ, পাউরুটি, কুকিজ, বিস্কুট নিয়ে। নিজের ব্যাংকের সঞ্চিত টাকা ভাঙিয়েই নিলিশা এই দোকান দিয়েছেন। সাহায্য পেয়েছেন দুই দাদার কাছ থেকেও। যত দিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, তত দিন সংগীতশিল্পী নিলিশার এই সংগ্রাম জারি থাকবে।