বাংলাদেশের ভ্যাকসিন যে পর্যায় আছে

গ্লোব বায়োটেক নামের একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান করোনা প্রতিরোধী সম্ভাব্য যে টিকা তৈরি করছে, সেটি এখন ‘রেগুলেটেড অ্যানিমেল ট্রায়ালের’ পর্যায়ে আছে। এটি শেষ হলে কোম্পানিটি হিউম্যান ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিতে চায়।

নিজেদের তৈরি করোনা প্রতিরোধী সম্ভাব্য টিকা দিয়ে খরগোশের ওপর ‘প্রিলিমিনারি ট্রায়াল চালিয়ে সফল’ হওয়ার দাবি করেছেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তারা টিকার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এই টিকা আবিষ্কারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘প্রিলিমিনারি অ্যানিমেল ট্রায়াল শেষ হয়েছে। একটা রেগুলেটেড অ্যানিমেল ট্রায়াল হবে, যাতে আমরা হিউম্যান ট্রায়ালে যেতে পারি।’

বৈশ্বিকভাবে নিজেদের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ‘গোটা পৃথিবীতে বিভিন্ন কোম্পানির ১৪০টি ভ্যাকসিন ট্রায়ালে আছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আছে ১১টি কোম্পানি। দ্বিতীয় ধাপে আটটি। তৃতীয় ধাপে তিনটি। আর অনুমোদন পেয়েছে একটি কোম্পানি।’

অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটি মূলত চীনের। দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যবহারের জন্য ‘বিশেষ অনুমোদন’ দেয়া হয়েছে।

গ্লোব বায়োটেক কোম্পানি খরগোশের ওপর প্রিলিমিনারি ট্রায়াল শুরু করে জুনের ১০ তারিখ। দুদিন বাদে প্রি-ইমিউন সেরাম সংগ্রহ করা হয়। জুনের ১৪ তারিখ তিনটি টার্গেট অ্যান্টিবডি দিয়ে ইমিউনাইজেশন করা হয়। ঠিক সাতদিন পরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। জুনের ২৮ তারিখ রক্ত সংগ্রহ করে, সেরাম সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়।

এই ডেটাগুলোর ফলাফল সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হতে রেগুলেটেড অ্যানিমেল ট্রায়াল করা হবে। এটি হবে ইঁদুরের ওপরে। এর জন্য সময় লাগবে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ। এরপরে তারা সরকারের কাছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি চাইবে।

একটি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরুর আগে প্রাণীর শরীরে ট্রায়ালে সফল হতে হয়। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হলে মানুষের শরীরে ট্রায়ালের অনুমতি দেয়া হয়। সম্প্রতি ভারত বায়োটেক কোম্পানি এই অনুমতি পেয়েছে। তারা হিউম্যান ট্রায়ালে টিকার কার্যরকীতা দেখার চেয়ে নিরাপদ কি না, সেটি বেশি বিশ্লেষণ করবে।

প্রাণীর শরীরে ট্রায়ালে দুটি ধাপ থাকে। একটি প্রিলিমিনারি, একটি রেগুলেটেড। গ্লোব বায়োটেক প্রথমটি শেষ করে সফলতা পাওয়ার দাবি করছে।

কোনো প্রতিষেধক না থাকা কভিড-১৯ রোগের টিকা কিংবা ওষুধ বের করতে চীন, আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মতো দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। তিনটি দেশই বলছে, সেপ্টেম্বরের ভেতরে অন্তত যে কোনো কোম্পানির একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। সেই ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও সাধারণ মানুষের হাতে আসতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যাবে।