ফের ইছামতী নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের তারিখ ঘোষণা, এবার উচ্ছেদ হবেই

সারাদেশে অভ্যন্তরীন ছোট নদী ও খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাবনায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ইছামতী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও পুনঃখননের কাজ। করোনা পরিস্থিতির অবনতি ও রমজান মাসের কারণে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িক বন্ধ থাকলেও, ঈদের পর আবারো শুরু হবে উচ্ছেদ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, রমজান ও করোনা পরিস্থিতির মানবিক দিক বিবেচনায় সরকারের নির্দেশে ইছামতী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল।

নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ২০ মে থেকে আবারো উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করতে পরিপত্র জারি হয়েছে। ঈদের পরে নির্ধারিত তারিখেই পাবনায় উচ্ছেদ শুরু হবে। নদীপাড়ে অবৈধ বাসিন্দাদের সে সময়ের আগেই সরে যেতে অনুরোধ জানাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নদী খননের প্রাথমিক কাজও এগিয়ে নিতে চায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ইতিমেধ্যে খননের ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। তবে খনন কাজে কিছুটা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

উল্লেখ্য, ইছামতি নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও নদীপারে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রথম দফায় পৌর এলাকায় ৭.৬৭ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেত ও খনন কাজ হবে।

৮৪ কি.মি দীর্ঘ ইছামতি নদীর পাবনা পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৯ কি.মি এলাকায় অবৈধ, দখল, দূষণ ও পানি প্রবাহের অভাবে নদীর অস্তিত্ব সংকটময়।

পাবনায় পদ্মা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাবনার বেড়া উপজলার যমুনা নদীতে মিশেছে ইছামতি নদী। উৎসমুখ দখল, ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীতে এখন পানির প্রবাহ নেই।

ইছামতি নদীতে প্রাণ ফেরাতে নদীর ৩৮ কি.মি এলাকা খনন করে নদীর পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রায় ১২২০ কোটি টাকার প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা।