পাবনায় ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক, সরকারি বেরিবাধ কেটে সাবাড়

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক শুরু হয়েছে। পুকুর খনন করার পর তোলা মাটি বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা ও বসত বাড়িতে।

ভুমি আইন উপেক্ষা করে অবাধে পুকুর খনন করায় কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমান। এবং কাকমারী সরকারি বেরিবাধ কেটে সাবার করে দিয়ে ভেকু ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে অভিযোগ এলাকাবাসির।

অন্যদিকে ইট ভাটার চাহিদা মেটাতে দেদারচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ফসলি জমির টপসয়েল। মাটি বহনকারি ট্রাক্টরের অবাধে চলাচলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীন কাচাপাকা রাস্তা। ভোগান্তিতে পড়েছে ওই সকল এলাকার সাধারন মানুষ। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না বললেই ভেকু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ভয় দেখাচ্ছে। বলছে টাকা হলে সব কিছু করা যায়।

জানা গেছে, উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের হিড়িক পড়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটিও কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। কাকমারী সরকারি বেড়ে বাধ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে অসাধু ভেকু ব্যবসায়ীরা। বেড়ি বাধ কেটে রাস্তা তৈরি করে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বিক্রি করছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমি আইন উপেক্ষা করে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। অনেকে আবার বাগানের জমির মাটি কেটে সেখানে পুকুর খনন করছেন। এছাড়া আইনের তোয়াক্কা না করেই কাকমারী বেড়ি বাধ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে অসাধু পুকুর মালিক ও ভেকু ব্যবসায়ীরা। ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে মাটি ব্যবসায়ীরা সপ্তাহের বৃহষ্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নির্বিঘেœ পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুকএকাধিক ব্যক্তি জানান, কোন কোন এলাকায় এস্কেভেটর (ভেকুমেশিন) আবার কোনো এলাকায় শ্রমিক লাগিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরের সাহায্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব মাটি খননে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। জমির মালিককে অর্থের লোভ দেখিয়ে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে টপসয়েল। দিনের বেলায় বন্ধ থাকলেও রাতের বেলায় চুপিয়ে চলছে পুকুর খনন কাজ। এতে করে দিনদিন কমছে ফসলি জমির পরিমান। এভাবে চলতে থাকলে আগামিতে শস্য ভান্ডারের উপাধি হারাবে এ উপজেলায়।