প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রিংলার বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) বিকেলের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক হয়। কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সকালে তাৎপর্যপূর্ণ এক সফরে ঢাকায় আসেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি। গতকাল দিনের শেষ দিকে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার এই সফরের কথা চাউর হয়। তার ঢাকায় অবতরণের আগ পর্যন্ত কোনপক্ষই এ নিয়ে খোলাসা করে কিছু বলেনি।

তবে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, শ্রিংলার এই সফরে করোনা ভ্যাকসিন, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষীক বিষয়ে আলোচনা হবে।

অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৮ এবং ১৯শে আগস্ট ঢাকায় কাটাবেন শ্রিংলা।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিতেই শ্রিংলার এ সফর। এছাড়া, দ্য হিন্দুর রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিস্তা সেচ প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার সহায়তা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

 শ্রিংলার সফরে দ্বিপাক্ষীক সম্পর্কের অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ভারতের আগ্রহের কারণেই এই সফরটি হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঠিক করার লক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এক ঝটিকা সফরে ঢাকা এসেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা লকডাউন শুরুর পর এটাই শ্রিংলার প্রথম ঢাকা সফর।

খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষাৎ এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের সম্পর্ক ‘পুনরায় ঠিকঠাক’ করে নেয়া যখন খবর আসছে, ঢাকা চীনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সাথেও শ্রিংলার বৈঠকের কথা রয়েছে। শ্রিংলার সাথে থাকবেন ঢাকাস্থ ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস এবং যুগ্মসচিব স্মিতা পান্ত যিনি বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের সাথে ভারতের সম্পর্ক দেখভাল করেন।

প্রিন্ট এর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শ্রিংলার ঝটিকা সফরের খবর এমন সময়ে এলো যখন ঘোষণা হয়েছে বাংলাদেশ খুব দ্রুত তিস্তা নদী প্রকল্পে চীন থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পেতে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় নরেন্দ্র মোদি তিস্তা ইস্যুর আশু সমাধান হবে বলে শেখ হাসিনাকে কথা দিলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। ২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রায় হয়েই গিয়েছিলো। যদিও শেষ মুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সহযোগিতা না করায় তা ভেস্তে যায়।