প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গত ১৭ নভেম্বর পাবনার জনপ্রিয় ও শীর্ষ নিউজ পোর্টাল পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমে  “চাকরিতে ২ বছর: পাবনা শহরে কর্মকর্তার কয়েক কোটি টাকার বাড়ি”- শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মিথ্যা দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনার সুজানগরের বাপাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অঃদাঃ) এমরান হোসেন।ৎ

প্রতিবাদটি পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমি এমরান হোসেন; পিতা মোঃ আব্দুস ছাত্তার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরি৩ দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত আছি। গত ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ইং তারিখে আপনার অনলাইন পত্রিকার (pabnabarta24.com) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “ চাকরিতে ২ বছর: পাবনা শহরে কমর্কতার কয়েক কোটি টাকার বাড়ি” নামক শিরোনামটি দৃষ্টিগোচর হয়। বিস্তারিত খবর পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি পত্রিকায় উল্লেখিত কর্মকর্তা হিসেবে আমার নাম উল্লেখ করেছে। কিন্তু উল্লেখিত সংবাদে প্রকাশিত তথ্যগুলো আমার কাছে নিম্ন লিখিত কারণে বিভ্রান্তমূলক ও চক্রান্তমূলক এবং আমি সহ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নামান্তর বলে প্রতীয়মান হয়। 

কারণসমূহ নিম্নরুপ

১। সংবাদের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “পাবনায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবডিভিশন সুজানগরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হোসেন চাকুরির বয়স ২ বছর না পেরুতেই পাবনা শহরের অভিজাত এলাকায় কোটি টাকার বাড়ি নির্মাণ করছেন। ইতামধ্যে দুইতলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।”

প্রথম অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জায়গাটি ১৯৯৮ সালে আমার পিতা মোঃ আব্দুস ছাত্তার ক্রয় করেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করছেন এবং বর্তমানে ২য় তলার কাজ চলমান আছে। উক্ত জায়গাও আমার নয় বা বাড়িটিও আমি নির্মাণ করছি না।আরও উল্লেখ ̈ এই নির্মিতব ̈ বাড়িটির নির্মাণ ব্যয়ের প্রক্কলন ((Estimate)) সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনকারী কোন প্রকৌশলীকে দিয়ে এসেসমেন্ট করিয়েছেন তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও নাই এবং নির্মাণ কাজে যে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে তা রীতিমত ভূল, বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মনগড়া ও ভিত্তিহীন যা যে কোন প্রকৌশলী কর্তৃক খুব সহজেই অনুমেয়। এখানে আরও উল্লেখ্য আমি বিগত অক্টোবর, ২০১৫ ইং সাল থেকে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং সাল পর্যন্ত একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ও স্বনামধন্য বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলতার সাথে শিক্ষকতা করেছি। অক্টোবর, ২০১৮ ইং তে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করি। সুতরাং উল্লেখিত অনুচ্ছেদের তথ্যগুলো সঠিক নয় যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তমূলক অপপ্রচারের নামান্তর।

২। সংবাদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন রক্ষা বাঁধ নির্মান কাজে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এসডিই ইমরানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা রইস উদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।”

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, জানুয়ারী, ২০২০ ইং সালে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে সুজানগর পওর উপ- বিভাগ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমার অধিক্ষেত্রে কোন বন্যা নিয়ন্ত্রন রক্ষা বাঁধ নির্মান/সংস্কার করা হয় নি। সংবাদে উল্লেখিত স্থানীয় বাসিন্দা রইস উদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনে কি তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন তা আমার বোধগম্য নয়। কিন্তু রির্পোটার প্রাপ্ত তথ্যের সঠিকতা যাচই না করেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে।

৩। সংবাদের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হোসেন পাবনা শহরের শিবরামপুর কালাচাঁদপাড়ার স্যার সলিমুল্লাাহ লেনে চার কাঠা জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দ্বিতল ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় তলা নির্মাণাধীন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই ইমরান হোসেনের বাবা আব্দুস সাত্তার বিসিক শিল্পনগরীতে চাকুরি করতেন। অনেক বছর আগেই তিনি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ছেলে চাকুরি পাওয়ার দু বছর না পেরুতেই অর্থবিত্তের মালিক হয়ে পড়েছেন।”

তৃতীয় অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, এখানে উল্লেখিত জামির পরিমান ভূল আছে এবং যেহুতু উক্ত জায়গাও আমার নয় বা বাড়িটিও আমি নির্মাণ করছি না কিন্তু সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার প্রাপ্ত তথ্যের সঠিকতা যাচই না করেই মনগড়া, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। সংবাদে দ্বিতল ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলা হলেও নিচের তলার কাজ অসামাপ্ত এবং ২য় তলার কাজ চলমান কিন্তু সংবাদটিতে ৩য় তলা নির্মাণাধীন উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে আরো উল্লেখ ̈ আমার বাবা বিসিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন এবং গত ফেবধুয়ারী, ২০১৯ এ তার পি. আর. এল সমাপ্ত হলেও সংবাদে বলা হয়েছে তিনি অনেক বছর আগেই চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন যা সম্পূর্ন ভূল তথ্য এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। অবসরকালীন প্রাপ্ত টাকা ও উত্তারাধিকার বলে প্রাপ্ত জমি বিক্রয়ের সাথে সাথে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন এর কাছে থেকে ঋণ নিয়ে বাসার কাজ চলমান রেখেছেন।

৪। সংবাদের চতুর্থ অনুচ্ছেদে আমার বিবৃতি উল্লেখ করা হলেও আপনার পত্রিকার কোন সাংবাদিককে এতদ্ বিষয়ে আমি কখনো কোন কথা বলি নাই। রির্পোটার আমার কোন বিবৃতি না নিয়েই মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য  তুলে ধরেছে।

৫। সংবাদের ৫ম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “ এদিকে একটি বিশ্বস্ত্রসূত্র দাবি করছে, চাকরিতে যোগদানের পরপরই পাবনার সুজানগরে দুবারের বন্যায় ইমার্জেন্সি ওয়ার্কে নদী ভাঙন রোধে ভাঙন কবলিত এলাকা গুলোতে জিওবি ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সময়ে পাউবোর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে কতিপয় ঠিকাদারের মাধ্যমে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়। সেখান থেকে তিনি বিপুল পরিমান টাকা দুর্নীতি করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। ”

৫ম অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, আমি অত্র উপ-বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করি জানুয়ারী, ২০২০ ইং সালে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ১টি মাত্র বন্যা মৌসুম অতিবাহিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এম,পি মহোদয়ের ডিও লেটার এর প্রেক্ষিতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তদারকিতে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এম,পি মহোদয়ের মনোনীত প্রতিনিধি ও স্থানীয় উপজেলা প্রসাশনের মনোনীত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। সেই সাথে আমাদের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে মাননীয় এম,পি মহোদয় অবহিত আছেন এবং বিভিন্ন সময় তিনি এসব সাইট পরিদর্শন করেছেন। আরো উল্লেখ্য এই মহামারী কোভিট-১৯ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ও আমরা সফলতার সাথে নদী ভাঙন প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছি যার কারণে বন্যা শেষে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এম,পি মহোদয় আমাদের সংশ্লিষ্ট সকলকে মৌখিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। এখানে আরো উল্লেখ্য এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কোন বিল দেওয়া হয় নাই। সংবাদে উল্লেখিত “বিশ্বস্তসূত্র” কোন তথ্যের ভিত্তিতে এরুপ মন্তব্য করেছে তা আমার বোধগম্য নয় এবং রির্পোটার প্রাপ্ত তথ্যের সঠিকতা যাচই না করেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া, ভিত্তিহীন ও বিশেষ মহলের প্ররচনায় প্ররচরিত হয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে।

সুতরাং এরুপ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন তথ্যা সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ করায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন সহ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমি ও আমার পিতার সামাজিক সম্মান, দাপ্তরিক মর্যাদা ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার এর কারণে ভবিষ্যতে তরুণ প্রকৌশলীরা তাদের দায়িত্ব পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাই এই বানোয়াট, মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তমূলক অপপ্রচারের নিমিত্বে প্রকাশিত এই সংবাদের বিষয়ে তীবধ প্রতিবাদ জানাচ্ছি।