পুলিশি বাধায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

কারাবন্দি ও অসুস্থ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ছিল বিএনপি। কিন্তু সকাল থেকেই দলের প্রধান কার্যালয় ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্লা বাহিনীর সদস্য। ফলে পুলিশের বাধার মুখে কর্মসূচি স্থগিত করে নতুন করে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত ও নতুন করে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে আজকে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধার প্রতিবাদে আগামীকাল ঢাকা মহানগরে থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।’

এছড়া বিদ্যুৎ ও ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী সোমবার (২ মার্চ) ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা সদর ও মহানগরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকায় মানববন্ধন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় শুরু হয়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে।

রিজভী বলেন, ‘অন্যান্য মামলায় দেশনেত্রী জামিনে থাকায় সারা জাতি আশা করেছিল শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ বর্ষীয়ান এই দেশনেত্রীর উন্নত চিকিৎসার জন্য হলেও জামিন পাবেন। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। জামিন আবেদন খারিজ সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও ফরমায়েসী রায়েরই প্রতিফলন। আদালত দিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণের রমরমা রাজনীতির সফলতায় আওয়ামী লীগ উল্লসিত।’

তিনি বলেন, ‘যে নেত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পক্ষে লড়াই করে যাচ্ছেন, গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্বেও গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের জন্য যিনি কখনোই পিছপা হননি, সেই নেত্রীকে সরকারপ্রধান কোনভাবেই সহ্য করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর লাগামছাড়া ক্রোধেরই বহি:প্রকাশ দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর গত বৃহস্পতিবার সরকারের নির্দেশে বিইআরসি কর্তৃক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণরুপে জনস্বার্থ পরিপন্থি। একই সঙ্গে আগামী এপ্রিল মাস থেকে গ্রাহকদের আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে ওয়াসার পানি কিনতে হবে। তবে সেই পানি বিশুদ্ধ হবে কি না তার কোন গ্যারান্টি নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১২ বছরে ১৩ বার ওয়াসারা পানির দাম বেড়েছে। সরকারের এসকল গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিজেদের লুটপাটকে অব্যাহত রাখা এবং দেশের মানুষকে শোষণ করে কঙ্কালসার বানানোই সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য।’