পাবিপ্রবির শিক্ষক ও প্রকল্প পরিচালকের পাল্টাপাল্টি জিডি, উত্তেজনা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদ ফাঁকা থাকায় এক ধরনের অভিভাবক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নানা ঘটনা ঘটছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) জি এম আজিজুর রহমান‌ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ড. এম আবদুল আলীম পাল্টাপাল্টি জিডি করেছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রবিবার (১০ এপ্রিল) রাতে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে উভয়ই সম্প্রতি পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক  শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাবিপ্রবির পাঁচশ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও নির্মাণকাজ পরিদর্শন করতে আসেন। তিনি আসার পর সাবেক ভিসি রোস্তম আলীর বিপক্ষ গ্রুপের ১০-১২ জন শিক্ষক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকল্পের পিডি (পরিচালক) নিয়োগে অনিয়মসহ প্রকল্পের ১০ কোটি টাকার বইক্রমে অনিয়মসহ বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকা অডিট আপত্তির বিষয়টি অবহিত করেন এবং সেগুলোর প্রমাণের কাগজপত্র তুলে ধরেন। শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. হারুন-অর রশিদ, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম আবদুল আলীম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান হোসেন,  সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আওয়াল কবির, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল হোসেন, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা প্রমুখ।
সূত্র আরও জানায়, অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে মিটিং হওয়ার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিবুর রহমানের কক্ষে একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) জি এম আজিজুর রহমানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন। এসময় পিডির সঙ্গে দশ কোটি টাকার বইক্রয়ে অনিয়ম ও পিডির নামে কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অডিট আপত্তি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিজন ব্রহ্মসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পরে ওই গণমাধ্যমে ‘পাবিপ্রবিতে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক আজিজুর রহমান তার নামে কুৎসা রটনা, ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে দুই শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করেন। পরে ড. আবদুল আলীম পাল্টা আরেকটি জিডি করেন প্রকল্প পরিচালক আজিজুর রহমানের নামে।

জিডিতে আবদুল আলীম উল্লেখ করেন, ১০ কোটি টাকার বইক্রয়ে অনিয়ম ও প্রকল্পে কোটি কোটি অনিয়ম বিষয়ে পিডি আজিজুর রহমানের নামে অডিত আপত্তির বিষয়ে বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং তার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করার হুমকি দেন। তিনি আগ্নেয়াস্ত্রটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার জন্যে এবং তাঁরসহ অন্য শিক্ষকদের নিরাপত্তা প্রদানের অনুরোধ করে জিডিটি করেন।

একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লে. কর্ণেল (অব.) আজিুর রহমান মাঝেমধ্যেই শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তাঁর সঙ্গে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র থাকে যেটি দিয়ে ক্যাম্পাসের অনেককেই তিনি ইতিমধ্যে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক লে. কর্ণেল জি এম আজিজুর রহমান ও মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ড. এম আবদুল আলীম জিডির করার কথা স্বীকার করেন।

পাবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিজন ব্রহ্ম বলেন, ‘উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। অভিভাবক না থাকলে যা হয়। পাল্টাপাল্টি জিডির ঘটনা তারই প্রমাণ। নিরাপত্তা কর্মকর্তার কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের কথা কাটাকাটির ঘটনা আমার সামনেই ঘটেছে, তবে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’