পাবিপ্রবি’র আইসিটি কর্মকর্তা রুবেল কারাগারে, বরখাস্ত

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের কর্মকর্তা মো. রুবেল হোসেন (৩১) কে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গত রোববার (১৫ ডিসেম্বর) এ ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা অপচেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন রুবেলের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাহফুজা খাতুন।

মাহফুজা বলেন, এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বিভাগীয় প্রধান আনোয়ার হোসেনকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। তবে গতকাল শনিবার বিকেলে ভিসি প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী বলেন, রুবেল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আমি আজই ফাইলে স্বাক্ষর করেছি।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, পাবনার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গি গ্রামের রমজান আলী প্রামানিকের ছেলে রুবেল হোসেনের সঙ্গে ২০১১ সালের ৬ জুন এক লক্ষ এক টাকা দেনমোহরে একই গ্রামের মন্তাজ আলীর মেয়ে মোছা. মাহফুজা খাতুনের বিয়ে হয়। পরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরির কথা বলে রুবেল তার শশুরের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা যৌতুক নেন। তখন সে আবার ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে নতুন করে আরেকটি কাবিননামা করেন। তাদের ঘরে রাইসা নামের ৭ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি রুবেল প্রথম স্ত্রী নানা সময় যৌতুকের জন্য চাপ দিতো। কিন্তু সকল সম্পত্তি বিক্রি করে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর নি:স্ব হয়ে যাওয়ায় মাহফুজার বাবা মন্তাজ যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায়ই মাহফুজাকে প্রায়ই মারধর ও নানা ধরণের নির্যাতন করতো।

এক পর্যায়ে মাহফুজাকে মেরে বাড়ী থেকে বের করে দিলে চলতি বছরের ২০ আগষ্ট মাহফুজা যৌতুক, নারী নির্যাতন বিশেষ আদালতে মামলা করেন। (মামলা নং ৩৬৯/২০)। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সাঁিথয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্ত করে রির্পোট প্রদান করতে নির্দেশ দেন। সম্প্রতি সাঁিথয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ১৫ ডিসেম্বর এই মামলার নির্ধারিত শুনানীর দিনে রুবেল আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তার আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার পর থেকে রুবেল পাবনা কারাগারে রয়েছেন। পাবনা কারাগারের সুপারেনটেনডেন্ট এস এম শাহ আলম শনিবার বিকেলে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গত বছরের প্রথম দিকে রুবেল গোপনে বেড়া উপজেলার স্যানালপাড়া ব্রাকের সাবেক কর্মচারী সোনিয়া খাতুনকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করে বলে জানা গেছে। সোনিয়া নিজেও এখন সন্তান সম্ভবা।

এ ব্যাপারে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, করোনা কারণে এখন কেউ অফিসে ঠিকমত আসেননা। তাই এই বিষয়ে তার জানা নেই। তবে গত ৮ দিন ধরে রুবেল অণমুতি ছাড়াই অনুপুস্থিত রয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে রুবেল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আমি আজই ফাইলে স্বাক্ষর করেছি।