পাবনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শনাক্ত ১৩৬, মৃত্যু ৩ জনের

পাবনায় একদিনে করোনায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৩৬ জন। রবিবার (৫ জুলাই) ১১০ জন শনাক্তের দিনে আরও ৩৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ফলে ওইদিন মোট ১৩৬ জন করোনা আক্রান্ত হোন।

এছাড়াও একইদিন আরও একজনের করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়। ফলে রবিবার পাবনা জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। এর মধ্যে দুইজন ঘনিষ্ট বন্ধু ও ব্যবসায়ী।

সর্বশেষ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসন (সিভিল সার্জন) থেকে এতথ্য জানানো হয়।

মৃতরা হলেন- জেলা সদরের শালগাড়িয়া মহল্লার আইয়ুব আলী (৫৫) , শিবরামপুর মহল্লার মো. সালাউদ্দিন (৫৬)। তাঁরা দুজন ব্যবসায়ী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এবং অপর জন শিবরামপুর মহল্লার আবুল হাশেম। তাঁদের মধ্যে আইয়ুব আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে,  মো. সালাউদ্দিন ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে  এবং আবুল হাশেম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদের সবারই করোনা পজিটিভ শনাক্ত ছিল।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. সালাউদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৬ জুন তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে রোববার দুপুরে তিনি মারা যান। আইয়ুব আলী জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে ২৬ জুন তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান এবং আবুল হাশেম জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় মারা যান।

আইয়ুব আলীর শ্যালক ফয়সাল ইসলাম জানান, মৃত সালাউদ্দিন ও আয়ূব আলী দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তারা দুজনই ব্যবসা করতেন। তবে বেশ কিছুদিন তাদের দেখা হয়নি। দুজন পৃথকভাবেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলায় কোনো পিসিআর ল্যাব না থাকায় ঢাকা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ল্যাবে নমুনার চাপ বেশি থাকায় পরীক্ষার ফলাফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৩০ টি নমুনা দিয়ে ৬ হাজার ৩৪০ টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। এ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জন।

একটি সুত্র জানায়, গত ৭ দিন পাবনার কোন নমুনা পরীক্ষা করা হয় নাই। নমুনা জটে নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করার বক্স না থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। সর্বশেষ সোমবার দুপুরে প্রাপ্ত ফলাফলে জেলার নতুন করে করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়েছেন ১৩৬ জন। এখন পর্যন্ত সদর উপজেলায় ২৯৯ জন, ঈশ্বরদীতে ৯৮ জন, সুজানগরে ৭৪ জন, আটঘরিয়ায় ২৩ জন, চাটমোহরে ১১ জন, ভাঙ্গুড়ায় ২৪ জন, ফরিদপুরে ৮ জন, সাঁথিয়ায় ৩৭ জন ও বেড়ায় ১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেন।

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন মেহেদী ইকবাল বলেন, জেলায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মোট শনাক্ত বিবেচনায় জেলা সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার আক্রান্ত এলাকা ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫৫ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল করোনা ইউনিটে ১২ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। অন্যদের শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন গত ১৬ এপ্রিল। এরপর মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত দেড় মাসে ৩৬ জন শনাক্ত হন। জুন ও জুলাইয়ের এসে এই সংখ্যা ৫৮৪ জনে পৌঁছাল।

error: কাজ হবি নানে ভাই। কপি-টপি বন্ধ