পাবনায় আরও ২৩ জনের করোনা শনাক্ত

দেশের অন্যান্য জেলার মতো পাবনাতেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জেলায় আরও ২৩ জনের শরীরের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে এই জেলায় করোনা ভাইরাসের রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজারের কাছাকাছি পৌছাল।

শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পাবনা জেলা প্রশাসন থেকে এব্যাপারে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ১৩৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার পর শুক্রবার প্রাপ্ত ফলাফলে তারা শনাক্ত হন। এদিন বিভাগের রাজশাহীতে ৭৪ জন, নওগাঁয় একজন, জয়পুরহাটে ১২ জন, বগুড়ায় আটজন, সিরাজগঞ্জে ১৯ জন এবং পাবনায় ২৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

একই সময়ে বিভাগের ৪২ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৪ জন, জয়পুরহাটের দুইজন, বগুড়ার ১১ জন এবং পাবনার ১৫ সুস্থ হন।

এ বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৮ হাজার ১৯৬ জনে। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৯৯ জন সুস্থ হয়েছে। এরম ধ্যে রাজশাহী জেলায় ৬৯৫৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮৭২ জন, নওগাঁ ১৭৫৬ জন, নাটোর ১৩৬৬ জন, জয়পুরহাট ১৪৭৮ জন, বগুড়া জেলায় ১০ হাজার ৭৮৭ জন, সিরাজগঞ্জ ৩০৪০ জন ও পাবনা জেলায় ১৯৩৩ জন।

মৃত্যু হওয়া ৪২১ জনের মধ্যে রাজশাহী ৫৯ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জে ১৪ জন, নওগাঁ ২৭ জন, নাটোর ১৪ জন, জয়পুরহাট ১০ জন, বগুড়া ২৬৭ জন, সিরাজগঞ্জ ১৮ জন ও পাবনায় ১২ জন। মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিল ৬৮ হাজার ০২ জন।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রাজশাহীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে সকলের মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া পাঁচজনের করোনার উপসর্গ ছিল। এদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। আর একজন করে মারা গেছেন হাসপাতালের ২৫, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। করোনা সন্দেহের রোগীদের ওয়ার্ড তিনটিতে রাখা হয়েছিল। সকলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা? তা নমুনা পরীক্ষার পর বলা যাবে। সকলের মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দাফন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে করোনার উপসর্গে রামেক হাসপাতালে তিনজন মারা যান। আর গত বুধবার রাতে মারা যান পাঁচজন। আগের সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে করোনা পজিটিভ তিনজন মারা যান।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক জানান, শনিবার রামেক হাসপাতালে ৫৪ জন করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি ছিলেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন আরও ৩৭ জন। করোনা পজিটিভ ছয়জনকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে। এছাড়া করোনার উপসর্গ থাকা তিনজন আইসিইউতে আছেন।