পাবনায় সবজির বাজার অস্থির, কেজিতে দাম বেড়েছে ১০-৪০ টাকা!

পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে রবিবার। শুরুর একদিন পরেই পাবনার সবজির বাজারে দাম বেড়েছে ব্যাপক হারে। রমজানের আগের সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে শসা, পটল ও বেগুনের।

সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে পাবনার বড়বাজার, মাসুম বাজার, অনন্ত বাজার, লাইব্রেরী বাজার, কলেজ গেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগের ৪০ টাকা কেজির শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। বেগুনের কেজি ছিল ৩০-৪০ টাকা, সেটা এখন ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। ঢ্যাঁড়স ৭০, উচ্ছে ৭০, পটল ৬০-৭০ ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫-২০ টাকার লেবু এখন হালিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। সজনে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা।

তবে স্বাভাবিক রয়েছে শাকের বাজার। লাল শাক ৩০ টাকা কেজি, আঁটি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা। ডাটার শাক বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০-৪০ টাকায়। বড় ডাটার শাক ৩ আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। আর আকার ভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, খরায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বাজারে সবজির সরবরাহ কম। আর রমজানে সবজির চাহিদা একটু বেড়ে যায়। এজন্য প্রতিবছরের এই সময়ে বাজারে কিছু সবজির দাম বেড়ে যায়। এবারও তাই হয়েছে।

খুঁচরা ব্যবসায়ী উজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমি কি করতে পারি? পাইকারী বাজার থেকে কেজি প্রতি শসা কিনেছি ৭০ টাকা। এখানে বিক্রি করছি ৭৫-৮০ টাকা। আমাদেরও দিনশেষে ৫০০-১০০০ টাকা হাজিরা থাকতে হবে। ’

আরেক ব্যবসায়ী জামরুল প্রামাণিক বলেন, ‘পাইকারি বাজারেও সবজি নেই। সেখানে আমাদেরই সবজি কিনতে হয় হুড়োহুড়ি করে। আমি পটল, ঢ্যাঁড়স, উচ্ছে যে দামে বিক্রি করছি তাতে ২-৩ টাকা কেজিতে লাভ করছি।’

এদিকে রমজান শুরুতেই বাজারে এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে যে অবস্থা তাতে তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়াই দুরুহ ব্যাপার। কিন্তু উপায় নেই। আমরা অসহায় অবস্থায় পড়েছি। আমাদের আয়ের যে অবস্থা তাতে বাজারে আসলেই হতাশ হয়ে যায়।’

বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আরেক ক্রেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরই রমজান আসলেই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। কিন্তু তাতেও আমাদের প্রশাসনের নজরে পড়ে না। তারা রমজানের আগে এই করব, সেই করব কিন্তু দেখা যায় কিছু হয় না। অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়েই যায়। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় তারা বেপরোয়াভাবে দাম হাকিয়ে নেয়।’

পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বাজারদর মনিটরিং কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা নিয়মিতই বাজার মনিটরিং করছি। আমাদের পাশাপাশি ভোক্তা অধিদফতরও মনিটরিং করছে। অনেক ব্যবসায়ীকে আমরা ইতোমধ্যেই শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছি। এরপরও যদি কোনও ব্যবসায়ী অবৈধভাবে দাম বৃদ্ধি করে থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’