পাবনায় শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষবাণিজ্য, শিক্ষকদের ঘেরাওয়ে অফিস থেকে পালালেন

পাবনার বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষা অফিস ঘেরাও করতে গেলে টের পেয়ে সটকে পড়লেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

বুধবার (২৩ জুন) বেলা ১১ টার দিকে শিক্ষকরা ওই কর্মকর্তার বিচার ও অপসারণ চেয়ে অফিস ঘেরাও কর্মসূচী পালন করতে যান শিক্ষকরা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুস সালাম অফিস থেকে সটকে পড়েন।

তার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন বলে জানান প্রতিবাদী শিক্ষকরা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে বেড়া উপজেলার ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপ-ফান্ড, ওয়াশ ব্লক, বিদ্যালয়ের রুটিন মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের শতকরা ৩০ ভাগ করে দাবী করছেন ঐ কর্মকর্তা। শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম নগদে ঘুষের টাকা পাওয়ার পরে চেক দিচ্ছেন বলে জানান শিক্ষকরা। ইতোমধ্যে ৮-৯টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘুষের টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান।

তালিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ওই কর্মকর্তা ‘বানচোদ’ বলে গালি দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষককের সার্ভিস বুকে বিরূপ মন্তব্য লেখার ভয় দেখিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি করে চলেছেন আমাদের।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, বেড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকেই ওই কর্মকর্তা শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করে চলেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে প্রধান শিক্ষকদের বলে দিয়েছেন- ‘আপনারা স্লিপের টাকা বা স্কুল সংস্কারের টাকা নিয়ে হজম করলেও আমি দেখতে যাব না।’ শুধু আমাকে শতকরা ৩০ ভাগ টাকা নগদে প্রদান করে ব্যাংকের চেক নেবেন। টাকা ছাড়া কোন চেক ছাড় পাবেন না।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সবুর আলী জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমি তাদেরকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু বলেন, আমার কাছেও শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনা সত্য কি- না তা উপজেলা প্রশাসন খতিয়ে দেখবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সমকাল‘কে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ শিক্ষকরা দিচ্ছেন সেটা মিথ্যা। এদের মধ্যে ক‘জন শিক্ষক বরাদ্ধকৃত টাকা পেয়েও স্কুলের কাজ করছে না এবং অনলাইনেও ক্লাস নিচ্ছে না সেটা বলাতেই আমার দোষ হয়েছে।