পাবনায় শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ।

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাছপাড়া উইনিয়নের ৭০নং রতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ক্রন্দলে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত মাসের একুশে ফেব্রুয়ারী সকালে স্কুলের শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে বিগত ১৪ দিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে স্কুলটিতে। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও তাকে লাঞ্চিত করা অভিযোগ এন থানাতে মামলা দায়ের করেছে। এদিকে স্কুলের সহকারি শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ স্থানীয়দের নামে মামলা মামলা দায়ের করায় ব্যাপক ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাটিতে। মিথ্য মামলা প্রত্যাহার সেচ্ছাচারি প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করায় ওই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

গত ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন ও তার স্বামীর সাথে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্য শহীদ দিবসে স্কুলের শহীদ মিনারে ফুলদেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয়দের অভিযোগ এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামী দুইজন মিলে স্কুলের সকল নিয়ম অমান্য করে একক সিদ্ধান্তে সকালে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্কুলের নিকটে অবস্থারত মুক্তিযোদ্ধাকে শহীদ দিবসের আমন্ত্রণ করে তাকে সকলের সামনে অপমান ও লাঞ্চিত করা অভিযোগ করেন ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

স্খানীয়রা তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমের চাইতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নিতে বেশি পছন্দ করেন। আর্থিক অনিয়মসহ সেচ্ছাচারী মনভাবের জন্য তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাগণ। সে তার ইচ্ছামত স্কুলে আসা যাওয়া করেন। স্কুলের নিকটে তার বাড়ি হওয়ার কারনে সে ও তার স্বমী দুইজন মিলে স্কুলকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন।

এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে লাঞ্চিত করা অভিযোগ এনে স্থানীয় আটঘরিয়া থানাতে অত্র ষ্কুলের সহকারি শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মঞ্জুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। তিনি তিনদিন হাজত খেটে বর্তমানে জামিনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ স্বরুপ মানবন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। ঘটনারদিন থেকে এখন অবদি প্রধান শিক্ষকসহ অন্যকোন শিক্ষক দীর্ঘ ১৪ দিন স্কুলে আর আসেননি। অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের সন্তানদের ওই স্কুলে না পাঠাচ্ছেনা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাবী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠদের।

ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অভিভাবকের সাথে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও প্রধান শিক্ষককের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল বারী বলেন, বাড়ির পাশে স্কুল বলে এই প্রথম বারেরমত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোনকরে দাওয়াত করে। কিন্তু সকালে স্কুলে এসে দেখি প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামীমিলে শহীদ বেদীতে ফুলের শ্রদ্ধা দিয়ে দিয়েছেন। তাকে প্রশ্নকরাতে সে আমাকে অপমান করে গালিদেয়। আমি ঘটনা স্থল থেকে বাড়িতে চলে আসি। সেখানে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলো তারা তখন প্রতিবাদ করেছে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মনজুর রহমান বলেন, আমাদের এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বাধীনতা বিরোধী মনভাবা সম্পূর্ন একজন মানুষ। তার সেচ্ছাচারী মনভাবের জন্য স্কুলে কোন কাজ করা যায় না। প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামী এই দুইজন আর তিনচারজন শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়েছে। আমরা স্কুলে এসে দেখি তিনি চলে যাচ্ছেন। তাকে প্রশ্ন করাতে রেগে আমাকে ও উপস্থিত সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাকে অকথ্য ভাষায় গালিদিতে থাকেন। তার অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছি আমরা। আর তিনি আমাদের সকলের নামে মামলা করেছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে মুঠোফোন বন্ধ করে দেয়। তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজী হয়নি।

এই বিষয়ে আটঘোরিয়া উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করে পাশবর্তী ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়ার প্রস্বাব করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন স্কুলবন্ধ থাকার জন্য আমরা সকলে মিলে স্থানীয় অভিভাবকদের সাথে বসেছিলাম। তারা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহার ছাড়া ওই স্কুলে তাদের সন্তানদের পাঠাবে না। আমরা অন্য শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের দিয়ে টিম ওয়ার্ক করছি। এখন কিছু শিক্ষর্থী স্কুলে আসতে শুরু করেছে। মামলার বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারছিনা। ইতমধ্যে ষ্কুলের শূন্য পদে নতুন সহকারি শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি সল্পদিনের মধ্যে এই বিষটি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

১৯৯০ সালে ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত রতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে মোট দুই শতাধীক। প্রধান শিক্ষকসহ সহকারি শিক্ষক রয়েছে মোট পাঁচ জন।