পাবনায় এক শিল্পপতির বিরুদ্ধে একজোট নেতারা, যেকোনও মূল্যে মাঠে থাকার ঘোষণা

পাবনা পৌরসভা নির্বাচন ও জেলা রাজনীতিতে এক শিল্পপতির হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশে করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা আসন্ন পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে এবং শিল্পপতির বিরুদ্ধে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। ‘পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শিল্পপতির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে’ ব্যানারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, পাবনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনও শিল্পপতি অনুপ্রবেশকারীকে হস্তক্ষেপ করতে দেয়া হবে না। দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সদ্য প্রবেশ করা নেতাদের নৌকা মনোনয়ন দেয়া মেনে নেয়া হবে না। যে কোনও মূল্যে তা প্রতিহত করতে হবে।

শিল্পপতির নাম উচ্চারণ না করে নেতারা বলেন, একজন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি তার নিজের স্বার্থে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝিয়ে একজনকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে ত্যাগীদের। অথচ আমরা বলেছিলাম আমাদের মধ্যে যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন তাদের মধ্যে থেকে যে কাউকে মনোনয়ন দিন, আমরা মেনে নেব।

তারা আরও বলেন, এই শিল্পপতির সহযোগিতায় পাবনায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনগুলোর কমিটিও অবৈধভাবে করা হচ্ছে। বাদ দেয়া হচ্ছে ত্যাগিদের, অথচ আওয়ামী লীগের এই নেতাকর্মীরা দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছে, জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে পাবনায় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান তৈরি করা হয়েছে। তাই নতুন করে আর কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দেয়া হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন সন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আবদুর রহিম পাকন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বাবু, আব্দুল হামিদ মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিম হাসান সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু, পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ আজাদ প্রমুখ।

এদিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই বিদ্রোহীদের এমন আয়োজনে পাবনা শহরে উত্তেজনা বিরাজ করে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহর জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপড়তা জোরদার করা হয়।