পাবনায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত সাবেক পুলিশ সদস্যের ভাইয়েরও মৃত্যু!

পূর্ব শত্রুতার জেরে ধরে পাবনার সুজানগর উপজেলার তাতিবন্দে কুপিয়ে হত্যা করা সাবেক পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম খন্দকারের ভাই মতি খন্দকার (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ফলে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ জনে।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে তাকে তাতিবন্দ ইউনিয়নের ভবানীপুর জিয়েলগাড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয। এর আগে ঘটনার ৮ দিন পর মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মতি খন্দকার ভবানীপুর জিয়েলগাড়ি গ্রামের মৃত হাসান খন্দকারের ছেলে। একই ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীর আলম খন্দকারের ছোট ভাই। জাহাঙ্গীর আলম ২০২১ সালে পাবনা সদর থানা থেকে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিলে তারা বিকেলে দাফন করেছেন। আর যেহেতু জাহাঙ্গীর আলম নিহতের এজাহারেই ভিকটিম হিসেবে তার নাম রয়েছে ফলে আলাদা করে মামলা নেয়া প্রয়োজন নেই।

নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জুবায়ের খন্দকারের দাবি, ‘হামলাকারীরা চরমপন্থি দলের সদস্য। অবসর গ্রহণের পর এলাকার জুয়া খেলা নিয়ে প্রতিবাদ করে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। পরে তিনি পেনশনের টাকা দিয়ে নতুন বাড়ি করতে গেলে চরমপন্থিরা চাঁদা দাবি করে। জুয়া খেলা ও চাঁদাবাজি নিয়েই এলাকার চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত আশরাফ, জসিম মাস্টার, রাজা, সুমন, সোবহানসহ কয়েকজনের সাথে বিরোধ চলছিল।’

সেই বিরোধের জেরেই ২২ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে তারা একযোগে জাহাঙ্গীর আলম বাড়িতে ট্যাটা, বররা, হাসিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলেই নিহত হোন এবং মতি খন্দকারসহ অন্তত ১০ আহত হোন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মতি খন্দকারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে ঘটনার দিনে ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘৫ বছর আগে তাদের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই তাদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এখানে চরমপন্থির কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। এঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতরা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।’

কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন- তাঁতিবন্দ ইউনিয়নের জিয়ালগাড়ি ভবানীপুর গ্রামের আকবার প্রামাণিকের ছেলে ঘটনার প্রধান আসামি আশরাফ আলী, আবুল হোসেনের ছেলে আকরাম হোসেন, খলিলুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন, আরশেদ আলীর ছেলে নাজমুল হোসেন ও সাঁথিয়া থানার ভৈরবপুর গ্রামের মোকারম হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম।

error: কাজ হবি নানে ভাই। কপি-টপি বন্ধ