অনেক দেনদরবার করেও পিসিআর ল্যাব হচ্ছে না পাবনায়!

পাবনায় মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলেও এখনো হয়নি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্যসেবায় পাবনা এমনিতেই রয়েছে অনেক পিছিয়ে। আর এখন এই করোনাকালেও পাবনার মানুষ সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া এবং রাজশাহীতে পিসিআর ল্যাব থাকলেও পাবনার মানুষের কপালে তা জোটেনি। পিসিআর ল্যাব না থাকায় গত বছর করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং ঢাকাতে।

সেসময় পাবনার বাইরে এই নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে কিট নেই বা ধারণক্ষমতা নেই-এমন অজুহাতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় রোগীরা। পরে রাজশাহী এবং এ বছরের শুরু থেকে শুধু সিরাজগঞ্জে নমুনা পাঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, অনেক দেনদরবার করে এখন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে সিরাজগঞ্জ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় একবার নমুনা দিয়ে রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় করোনার উপসর্গে থাকা এবং করোনা রোগীসহ তাদের স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এসব নিয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, পাবনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংক্রমণের হার ছিল দুই শতাংশ। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর সংক্রমণের হার প্রায় কয়েকগুণ বেড়ে প্রায় সাত শতাংশের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হন এক হাজার ৭০০ জন। মার্চ এবং ১০ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হন ২৩৩ জন। গত তিনদিনে একজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মারা গেছেন দুজন।

সূত্র মতে, ১৫ দিনে নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার চাপ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। শুধুমাত্র রূপপুর প্রকল্প থেকেই প্রতিদিন সাত থেকে আটজন করে করোনা শনাক্ত হচ্ছেন। নমুনা সংগ্রহ চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বেগ পেতে হচ্ছে। অথচ জেলার কোথাও স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগের এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই। লকডাউনের আগে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন জনগণকে সচেতন করতে একদিন মাঠে নামলেও আর কোনো ফলোআপ নেই।

শুরুতে বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে পাবনার বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ইফতেখার মাহমুদ বলেন, প্রথমত, পাবনায় নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, সবাইকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় বাধ্য করতে হবে।

পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কেএম আবু জাফর বলেন, নমুনা পরীক্ষার এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত পাবনায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, পিসিআর ল্যাবের জন্য গত বছর থেকেই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মহলে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা কোভিড-১৯ বিষয়ক কমিটির সভাপতি কবীর মাহমুদ জানান, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে পাবনা মেডিকেল কলেজে দুটি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু এখনো কেন যে হচ্ছে না-তা বোধগম্য নয়।

অবিলম্বে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ বলেন, দেশের ১৭ জেলার এক জেলা পাবনা। মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় এত পিছিয়ে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

-যুগান্তর

>> পাবনার নিয়মিত ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনটি চালু করুন। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন