পাবনায় পারিবারিক কলহের কারণে ১৫টি গাছেই পচলো লিচু

পারিবারিক কলহের কারণে মামলা হওয়ায় পাবনার এক কৃষকের ১৫টি গাছের লিচু পুলিশ পাড়তে নিষেধ করে৷ শেষ পর্যন্ত গাছেই পচেছে সব লিচু৷

মামলা হওয়ায় পুলিশ লিচু পাড়তে নিষেধ করলেও পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে লিচু পাড়ার অনুমতি পেয়েছিল পরিবারটি৷ কিন্তু তখন আর লিচু কেনার লোক পাওয়া যায়নি৷ লিচু ‘অতিরিক্ত পেকে যাওয়ায় এবং পোকা ধরায়’ ক্রেতারা আর কিনতে আগ্রহ দেখাননি৷ তাই বাগানেই পচে নষ্ট হয়েছে সব লিচু৷

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর মধ্যপাড়া গ্রামে লিচু গাছ নিয়ে বিরোধ বাধে শামসুল হক প্রামানিক ও তার ভাই-বোনদের মধ্যে৷

শামসুল হক প্রামানিক বলেন, ২০০০ সালে তাদের বাবার মৃত্যুর পর তাদের তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা হয়৷ এতে শামসুল হক প্রায় ৫৯ শতাংশ জমি ও কিছু লিচুর গাছ পান৷ সেই জমিতে তিনি আরো কিছু লিচুর গাছ রোপন করেন৷ প্রায় ২০ বছর ভোগ দখল করে থাকা ওই জমির ২২ শতাংশ জমি তিনি দুই জনের কাছে বিক্রি করেন৷ বাকি জমিতে শামসুল হকের বসত ভিটা ও ১৫টা লিচুর গাছ রয়েছে৷

শামসুল হকের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তিনি হামলার অভিযোগে তার ২৪ বছর বয়সি ভাগ্নি হিমু, ভাতিজা শিশির (২৩), ভাই এনামুল হক (৬০) ও আসাদুল হকের (৫৮) বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন৷ এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে তারা বের হয়ে আসেন৷ এরপর শামসুল হককে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন৷ এতে শামসুল হকের সঙ্গে আসামিদের আবার বিরোধ শুরু হয়৷

“এর জেরে গত ২৫ মে আমি ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি৷ আসামিরাও একটি মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন৷”

আসামিদের অভিযোগের কারণে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ গাছ থেকে লিচু পাড়তে নিষেধ করে বলে শামসুল হক জানান৷ এতে ৫৫ বছর বয়সি শামসুল হক প্রামানিক প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন৷

‘পুলিশের নিষেধে নষ্ট হচ্ছে ১৫ গাছের পাকা লিচু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বাগানের লিচুগুলো বিক্রির জন্য সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন৷

এ ব্যাপারে সলিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বাবুল মালিথা বলেন, “পেকে লিচুতে পোকা ধরে গেছে৷ পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর আমরা লিচু বিক্রির জন্য কয়েকজন ক্রেতাকে বাগানে এনেছি৷ কিন্তু কিছুতেই তারা এই লিচু কিনতে রাজি হয়নি৷ এখন বাগানেই লিচুগুলো পচে ঝরে যাচ্ছে৷”

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “দুই পক্ষই বাগানের মালিকানা দাবি করছে৷ বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি৷ পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷”