পাবনায় নামাজে ভুল ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ২ জন হাসপাতালে

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি মসজিদে তারাবিহ নামাজে তেলওয়াত করা সূরায় ভুল ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার চৌবাড়িয়া হারোপাড়া মডেল স্কুল সংলগ্ন মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন- ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত সোবহান সরকারের ছেলে আক্কাস আলী (৫৫) ও চৌবাড়িয়ার দক্ষিণপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন (৪০)। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মসজিদের ইমাম রহমত উল্লাহ তারাবিহ নামাজের মধ্যে সূরা ইখলাস পড়া নিয়ে ভুল ধরেন সেকেন্দার আলী নামের এক মুসল্লি সূরা উচ্চারণ শুদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেন। এসময় আরেক মুসল্লি আব্দুস সালাম মন্তব্যকারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। সেখানে উপস্থিত সিকান্দারের ছেলে ফরহাদ হোসেন সালামকে মারধর করতে গেলে উপস্থিত অন্যান্য মুসুল্লিরা তাদের থামিয়ে দেন। পুনরায় নামাজ শুরু হলে ফরহাদ সমজিদ থেকে বাহিরে গিয়ে তার ভাই সেলিম হোসেন, সাইফ আলী বিশ্বাস ও সেলিমের ছেলে বায়েজিদকে ডেকে মসজিদের সামনে নিয়ে এসে বাহির থেকে ভেতরে থাকা সালামকে হুমকি দিতে থাকে। সেখানে উপস্থিত আব্দুস সালামের ভাই আক্কাস আলী ও সিদ্দিকুর রহমান তাদের বাধা দিলে উপয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় ফরহাদ হোসেন ও আক্কাস আলী আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত আক্কাস আলী ও ফরহাদ বর্তমানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এবিষয়ে সিকান্দার আলীর ছেলে সেলিম হোসেন বলেন, ‘মসজিদের ভেতরে আমার বাবার সাথে সালামের তর্কের জেরে সালাম ও তার ভাইয়েরা এমনকি তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাসুম নামের এক ব্যক্তিও ফরহাদকে মারধর করেছে।’

তবে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম জানান, ‘সিকান্দার দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের এসে ঝামেলা করে। একই ভাবে রবিবার মসজিদে ইমামের ভুল ধরলে আমি তাকে নামাজ শেষে এই বিষয়ে কথা বলতে বলায় সে ও তার ছেলে ফরহাদ মসজিদের ভেতরেই আমার উপর চড়াও হয়। পরে তার পরিবারের লোকজন ডেকে এনে আমার ভাইদের মসজিদের সামনে মারধর করে।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘটনার কোনো পক্ষই এখনও পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দেয়নি। সোমবার স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলে আমাদের জানা গেছে। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’