পাবনায় নতুন জাতের আখ উদ্ভাবন, স্বপ্ন দেখছে চাষীরা

পাবনায় অবস্থিত বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চফলনশীল এবং অধিক চিনি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন জাতের আখ উদ্ভাবন করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৫তম সভায় এ জাতটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

বিএসআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আখ গবেষণা ইনষ্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানায়, এ জাতের ফলন ৯৩.৫০ থেকে ১২১.৫২ টন। বহুল প্রচলিত চেকজাত ঈশ্বরদী ৩৯-এর চেয়ে ৭.৩৬ শতাংশ বেশি এবং চিনি ধারণক্ষমতা ১২.০৬ থেকে ১৫.১১ শতাংশ ও গুড় আহরণ হার ১০.৭৫ শতাংশ। জাতটি  মোটা এবং স্মাট ও উইল্ট রোগ প্রতিরোধী। এতে লালপচা  রোগ দেখা যায় না।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের আখচাষি নজরুল ইসলাম জানান, নতুন এই জাতটি উদ্ভাবনে আমরা খুব আশাবাদী। এতদিন আখ চাষ করে অনেকের লোকশান গুনতে হয়েছে। অনেকেই ঋন নিয়ে আখ চাষ করে পথে বসেছে। এখন নতুন এই আখের জাত আবাদ করে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারব।

ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া অঞ্চলের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, এ জাতের আখের পাতায় ধার কম থাকায় মাঠের শ্রমিকরা অনায়াসে আখক্ষেতে কাজ করতে পারে। যার ফলে এই আখক্ষেতে শ্রমিকের ঘাটতি হবে না।

তিনি আরো বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আখের পাতায় ধার বেশি থাকায় শ্রমিকেরা আখ ক্ষেতে কাজ করতে চায়না। যার ফলে অনেক সময় আখ ক্ষেতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। যার কারণে আখের পাতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলন ঘাটতি হয়।

আখ গবেষণা ইনষ্টিটিউট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের দুটি জাতের আখ সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ক্লোনটিকে পুনরায় নিজেদেও মধ্যে সংকরায়ন কওে ২০১১ সালে আই ১১১/১১ ক্লোনটি নির্বাচিত করা হয়। এর পর প্রাথমিক ফলন পরীক্ষা, অগ্রবর্তী ফলন পরীক্ষা,  আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষাসহ বেশ কিছু গবেষণার মাধ্যমে এটিকে নতুন জাত হিসেবে অবমুক্তির জন্য নির্বাচন করা হয়। জাতীয় বীজ  বোর্ডেও জাত অবমুক্তির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

এব্যাপাওে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত সুগারক্রপ গবেষণা ইনষ্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক সমজিৎ কুমার পাল  বলেন, আখের নতুন এই জাতটি উদ্ভাবনের মাধ্যমে সুগার মিলের পাশাপাশি আখচাষিরাও ব্যাপক লাভবান হবে। উচ্চফলনশীল এ জাতটি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে আখ চাষ একটি মাইলফলক উচ্চে উঠল বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এই জাতের ব্যাপক সুবিধা আছে। একদিকে শ্রমিক কম লাগবে অন্যদিকে ফলন বেশি হবে। তিনি আরো জানান, আখচাষিরা নতুন জাতের আখ আবাদে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।

ঊাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন এ তথ্যেও সত্যতা নিশ্চিত কওে জানান,  সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডেও ১০৫তম সভায় এ জাতটি অবমুক্ত করা হয়। আখের নতুন জাতটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, নতুন এই আখের জাত আবাদে দেশে চিনি ও গুড়ের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।