পাবনায় দফায় দফায় আ.লীগ-যুবলীগের সং’ঘর্ষ, চেয়ারম্যানের ভাইসহ আটক ৪

পাবনার সাঁথিয়ায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দু গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ চেয়ারম্যানের ভাইকে আটক করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২টি মামলা দায়ের করেছে। উভয়গ্রুপের অভিযোগে আ.লীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ককটেলসহ আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, সাঁথিয়ায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে পিস্তল ও ৪রাউন্ড গুলিসহ ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিটন মোল্লার ছোট ভাই জহুরুল ইসলাম কল্লোলসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে সাঁথিয়া থানা পুলিশ। রোববার সন্ধায় নন্দনপুর ইউনিয়নের পিয়াদহ গ্রামে সংঘর্ষ চলাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ হেলাল গ্রুপের লাদেন এলাহি আশিক (২৫) নামে একজনকে ককটেলসহ আটক করে পুলিশ। আটকৃত অন্যান্যরা হলো, পিয়াদহ গ্রামের মনসুর আলী (৪৫), আব্দুল আলিম (৪০) ও খয়েবাড়িয়া গ্রামের আলতাব হোসেন (৪০) । এ ঘটনায় উভয়পক্ষ শতাধিক নেতা কর্মীকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, নন্দনপুর ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা গ্রুপ ও যুবলীগ নেতা হেলাল গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার দুপুর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে চলে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে ওই এলাকার মহিলারা পুলিশের উপরও ক্ষিপ্ত হয়ে ধেয়ে আসে।

 এ সময় পুলিশের পাশ থেকেই চেয়ারম্যানের ছোটভাই জহুরুল ইসলাম কল্লোল প্রতিপক্ষ হেলাল গ্রুপকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে পুলিশ ধাওয়া করে একটি বিদেশী পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ তাকে আটক করে। এ সময় পুলিশ হেলাল গ্রুপের আশিক নামে এক যুবকে ককটেলসহ আটক করে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের কে সাঁথিয়া ও পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ দিকে এ ঘটনায় পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনসময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।

সাঁথিয়া ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম আরও বলেন,এ ব্যপারে থানা পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে ১০ জনকে আসামী করে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। অপরদিকে চেয়ারম্যান গ্রুপের আলতাব হোসেন বাদী হয়ে ৪৮ জন ও হেলাল গ্রুপের আব্দুল কাদের বাদী হয়ে ৪৪ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তিনি বলেন, তাদের অভিযোগগুলি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।