পাবনায় ত্রাণের তালিকা নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউপি সদস্যদের হাতাহাতি


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় করোনাভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে গৃহে অবস্থান করা স্বল্প আয়ের ও দুস্থ পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদানের তালিকা তৈরি নিয়ে  ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার  প্রত্যন্ত এলাকার খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে।  এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান বাদী হয়ে সরকালী কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ তুলে বারো জনকে আসামী করে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামানের সরাসরি হস্তক্ষেপে  ওই এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এ উপজেলার সবচেয়ে ও প্রত্যন্ত এলাকা নিয়ে খানমরিচ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অনেক পরিবার রয়েছে দিন মজুরের কাজ করে তাদের সংসার চালায়। তারা বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমাণ রোধে তারা বাড়িতে অবস্থান করছেন। ফলে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।  এ অবস্থায় সরকারের দেওয়া ত্রান সামগ্রী ওই সকল দুস্থ পরিবারে  পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে ভাঙ্গুড়া প্রথম পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন ২৮৩ জন স্বল্প আয়ের অসহায় দুস্থ পরিবারের তালিকা চান ইউপি চেয়ারম্যান  আসাদুর রহমানের নিকট। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান  কোনো ইউপি সদস্যকে না জানিয়ে গোপনে তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠায়।
 তবে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক উপজেলা প্রশাসনের নিকট প্রেরিত এই তালিকায় ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর না থাকায় তা ফেরত পাঠায়  উপজেলা প্রশাসন। পরে চেয়ারম্যান ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের নিকট দশ টি দুস্থ পরিবারের  তালিকা চান।  ইউপি সদস্যরা বিশ জনের নাম পাঠানে কিন্তু চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান ওই বিশ জনের তালিকা থেকে ১০ জনের নাম কেটে দিয়ে নিজের পছন্দমত পরিবারের নাম তালিকাভুক্ত করেন।
 এ ঘটনা নিয়ে  গত বুধবার দিনভর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে  বাকবিতান্ড। এর একপর্যায়ে বিকালে চেয়ারম্যানের ছেলে স্বপন ও তার লোকজনের সাথে ইউপি সদস্যদের চলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বুধবার রাতে ভঙ্গুড়া থানায় ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে তুলে একটি অভিযোগ করেন।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে স্বল্প আয় ও দুস্থ পরিবারকে তালিকাভুক্ত না করে নিজের পছন্দমত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করাতে চেয়ারম্যানের ছেলেসহ তার লোকজনদের দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন।
খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বলেন, ‘ ইউপি সদস্যরা ত্রাণের তালিকা তৈরি করা নিয়ে অশালীন আচরণ করেছেন। যার ফলে সময় মতো স্বল্প আয়ও  দুস্থদের মাঝে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি সহায়তা দিতে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। 
এব্যাপরে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান বারোজনকে আসামীকরে ইউপি চেয়ারম্যান মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যপারে ভাঙ্গুড়া ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ত্রাণ বিতরণের তালিকা তৈরি নিয়ে খান মরিচ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার সম্ভবনার কারণে বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে সরকারি ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।