পাবনায় ঘুড়ি উড়ানোর ধুম, আনিছুরের ‘রকেট’ উড়াতে লাগে ১৬ জন

বিশ্ব ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের মহামারীতে চারিদিকে বিরাজ করছে এক অস্থির পরিবেশ, আতংক ভর করেছে জীবন-জীবিকায়। মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের জন্য অনেকেই বাড়িতে অবস্থান করছেন, ঘরবন্দি মানুষগুলোর সময় যেন কিছুতেই কাটছে না।

ঠিক এমন সময় একটু মানসিক প্রশান্তির আশায় পাবনায় শুরু হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি ঘুড়ি উড়ানোর ধুম। শিশু-কিশোর থেকে তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ কেউই বাদ নেই এ তালিকায়। নিত্য নতুন ডিজাউনের ঘুড়ি তৈরী আর উড়ানো যেন এখন প্রতিদিনের চিত্র।

কে কত রকমের, কত রঙের, কে কত বড় ঘুড়ি বানাবে তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতের বেলাতেও উড়ানো হচ্ছে ঘুড়ি। এজন্য বাহারী ডিজাইনের সব ঘুড়ির সাথে লাগানো হয়েছে রং বেরঙের লাইট। প্রথম স্থানে এগিয়ে থাকার লক্ষ্য নিয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের বিশাল আকৃতির ঘুড়ি তৈরী করছে অনেকেই। তবে ঘুড়ি তৈরী ও উড়ানোর প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছে একটি ঘুড়ি।

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় এক ব্যক্তি তৈরি করেছেন ২২ ফুট লম্বা রকেট ঘুড়ি। উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের শহর আলীর ছেলে রসুন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান (৩৫) ব্যাক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করেছেন এই ঘুড়ি। আর এই ঘুড়ি উড়িয়ে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।

আনিছুর রহমান জানান, ২২ ফুট রকেট ঘুড়ি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় দু’টি আস্ত বাঁশ, তিন কেজি পলিথিন কাগজ, ২শ’ গ্রাম কট সুতা। প্রতিদিন ১০ জন মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে চারদিনে প্রস্তুত করেছে ঘুড়িটি। এই ঘুড়ি তৈরি করতে সর্বমোট প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ঘুড়িটি উড়ানো হচ্ছে।

আনিছুর রহমান আরো জানান, রকেট ঘুড়ি উড়াতে মোট ৮ কেজি দড়ি ব্যবহার করা হয়। ঘুড়ি উড়াতে দড়ি ধরতে ৭-৮ জন আর ঘুড়ি উড়িয়ে দিতে ৭-৮ জন মোট ১৬ জনের মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এই ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে বেশ আনন্দ হয় গ্রামের মানুষদের মাঝে।