পাবনায় ঘরে স্ত্রীকে গলাকেটে ফেলে রেখে দোকানে চা বিক্রি করে নিরঞ্জন

 পাবনার চাটমোহরে গৃহবধূ কল্পনা রানী পাল (৩৮) কে গলা কেটে হত্যার ক্লু উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত নিহত গৃহবধূর স্বামী নিরঞ্জন পাল ওরফে নিরুকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে সে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৬ বছর আগে কল্পনা রানীর সাথে বিয়ে হয় নিরঞ্জন পালের। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কল্পনা রানীকে বেধড়ক মারধর করতেন স্বামী নিরঞ্জন। বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিতেন তিনি।

রোববার এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। রাগের বশবর্তি হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী কল্পনা রানীকে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিছানায় ফেলে মুখ চেপে ধরে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে নিজের চা দোকানে গিয়ে দোকানদারি করতে থাকে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি ফিরে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে কল্পনা রানীকে মৃত দেখতে পেয়ে থানায় খবন দেয়। পুলিশ এসে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। সে সময় ধারনা করা হয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কল্পনা রানীকে হত্যা করেছে। সোমবার সকালে পুলিশ স্বামী নিরঞ্জনকে আটক করে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, আটকের পরে  পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে নিরঞ্জন। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর পিতা মনরঞ্জন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।