পাবনায় করোনার টিকা দেয়া বন্ধ, দ্বিতীয় ডোজ পেলেন না ৩৫ হাজার মানুষ

পাবনায় করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানসহ সকল টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা না পেয়ে ৩৫ হাজার ১৫৪ জন মানুষ নানা আতংক ও শংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। টিকার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন জেলার এই সব মানুষ।

পাবনা সিভিল সার্জন অফিস সুত্র জানায়, পাবনা জেলার ২৯ লক্ষ মানুষের জন্য দুই দফায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৩ ডোজ টিকা প্রদান করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। এর মধ্যে ৮০ হাজার ২৪৪ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৪৫ হাজার ৮৫ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দিকা প্রদান করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে টিকা গ্রহণ করেছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৩০ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা মিলে মোট ডোজ হয়েছে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৪০০। টিকা কার্যক্রমে জেলায় ডোজ নষ্ট হয়েছে মত্রি ২.৮৬ শতাংশ। যা খুবই স্বাভাবিক।

পাবনার বড় বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উত্তম কুন্ডু বলেন, প্রথম ডোজ নেওয়ার দুই মাস পার হলেও আমি পাবনা জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ লাইন ঘুরেও দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাইনি। এখন আমি কি করবো।

পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া এলাকার মাহবুবা খানম বলেন, শাররিক সমস্যা থাকায় আমি গত ২৭ এপ্রিল প্রথম ডোজ নিয়েছি। এখন কি দ্বিতীয় ডোজ পাবেনা কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

সুত্র জানায়, পাবনা জেলায় এ পর্যন্ত ৩০২৭ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জন মারা গেছে এবং ২৯৫১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছে। এখন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে মাত্র দুইজন ভর্তি আছে এবং ৬২ জন বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা বলেন, ১৯২ বছরের পুরোনো জেলা পাবনা। অথচ দেড় বছরেও এখানে একটি পিসিআর ল্যাব হলো না। এর চেয়ে বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা আর থাকতে পারে?

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, যারা এখনো দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাননি তাদের হতাশ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার দরকার নেই। কারন ৮ সপ্তাহ থেকে ২২ সপ্তাহের মধ্যে টিকা নেয়া যাবে। সরকার আমাদের যত দ্রুত টিকা সরবরাহ করবে তত দ্রুত আমরা সেবা টিকা দেবো। তবে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, দিনদিন পাবনার করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমরা পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য গত এক বছর ধরে মন্ত্রনালয়ে চিঠি চালাচালি করছি। এখনও আশানুরুপ ফল পাইনি।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিস ও পুলিশ প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে নানাভাবে কাজ করছে। তবে মানুষের খামখেয়ালি ও অসচেতনতার জন্য করোনা বাড়ছে।