পাবনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘন্টায় ৩ জনের মৃত্যু

পাবনায় গেল ২৪ ঘন্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা সদর হাসপাতালে দুইজন ও ঈশ্বরদীতে একজন।

এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী করোনা পজেটিভ হয়ে মৃত্যু বরণ করছেন ২৫ জন। আর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনি মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণকারীদের কোন হিসাব রাখা হচ্ছেনা সরকারি ভাবে।

এদিকে এখনো করেনা রোগীদের জন্য আলাদা ভাবে বরাদ্দকৃত কোন খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছেনা। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোন বাজেট বা অনুমদন আসেনি করেনা রোগিদের জন্য। তাই সাধারন রোগীদের জন্য যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় সেটিই তাদের দেয়া হচ্ছে। সাধারনত ১২৫ টাকার মধ্যে এই খাদ্য সরবরাহ করা হয়। আর করোনা রোগীদের জন্য সরকারি ভাবে বিশেষ বরাদ্দ জন প্রতি তিনশত টাকা। সেই বরাদ্দ এখনো অনুমদন হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

গত চব্বিশ ঘন্টায় পাবনা জেনালেল হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে একজন পুরুষ ও একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাবনা পৌর এলাকার নয়নামতিতে নিজাম উদ্দিনের ছেলে আরজু উদ্দিন আরজু ও সদরের তারাবাড়িয়া দারেন হোসেনের স্ত্রী রাশিদা খাতুন। এদিকে ঈশ্বরদী উপজেলাতে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ও কোভিট-১৯ এর প্রধান চিকিৎসক ডাঃ সালেহ মুহাম্মদ আলী বলেন, গত চব্বিশ ঘন্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের মধ্যে সকলের করোনার পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৮৩ জন রোগী উপসর্গ নিয়ে করেনা ওয়ার্ড এ ভর্তি রয়েছেন এদের মধ্যে পজেটিভ রোগী ১৯ জন। এখন পর্যন্ত পাবনা সদর হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। বর্তমানে অক্সিজেন সল্পতা রয়েছে তবে অক্সিজেনের কারনে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি।

হাসপাতালে একশো রোগীর শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। সেটি এখনো অতিক্রম করেনি। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য এখনো আলাদা বরাদ্দ আসেনি। সাধারন রোগীদের জন্য যে খাবার সরবরাহ করা হয় সেটিই তাদের দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। চাহিদা অনুসারে বরাদ্দ আসলে টিকাদারের মাধ্যমে করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডাঃ মনিসর চৌধুরী বলেন, জেলার সকল হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ রযেছে। অনেক সেচ্ছাসেবি ও রাজনৈতিক কর্মীরা বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন। আমাদের কাছেও রিজার্ভ রয়েছে সিলিন্ডার। তাই অক্সিজেন সংকট নেই পাবনায়।

এদিকে লকডাউনের ৬ষ্টতম দিনে শহরে মানুষের ভীড় পরিলক্ষিত করা গেছে তুলনামূলক অনেক বেশি। শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবহন ও সাধারন মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে নানা অজুহাতে রাস্তায় মানুষ বের হচ্ছে। কঠোর লকডাউন অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাবে হচ্ছে। ভ্যান, রেক্সা, অটো, সিএনজি, প্রাইভেট গাড়ি, হোন্ডা হর হামেসাই চলছে সড়কে।