পাবনায় এক শতবর্ষী বৃদ্ধ জীবিত থেকেও মৃত!

পাবনার সুজানগরে শতবর্ষী এক বৃদ্ধ জীবিত থাকলেও নথিপত্রে মৃত দেখানো হয়েছে। এরফলে গেল আট মাস ধরে বন্ধ হয়ে গেছে তার বয়স্ক ভাতা। বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে এ ঘটনার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহকারীদের দুষছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

লোকমান হোসেন মন্ডল সুজানগর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গুপিনপুর গ্রামের মৃত উজির মন্ডলের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৮ আগস্ট ১৯১৭ সাল। ভোটার আইডি নং-৭৬১৮৩৭৬৩৩৫৫২৬।

লোকমানের স্ত্রী মারা গেছেন অনেক আগেই। চার মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে এরই মধ্যে এক ছেলেও মারা গেছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া লোকমান হোসেন মন্ডলের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি জীবিত থাকতেও কীভাবে মৃত দেখানো হলো, কারা এমনটি করলেন কিছুই জানি না।

লোকমান হোসেন বলেন, গেল বয়স্ক ভাতা বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন- তিনি আর ‘জীবিত নেই’। ভোটার তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও ‘জীবিত হতে না পারায়’ তার ভাতার কার্ডটি আর চালু হয়নি।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা বই থেকে জানা গেছে, লোকমান হোসেন মন্ডল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভাতা পেয়েছেন, এরপর আর পাননি। তিনি জীবিত থেকেও কাগজে-কলমে মৃত হওয়ায় তার ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে।

লোকমান হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘আমরা চার বোন ও তিন ভাই। চার বোন বিয়ের পর সবাই দূরে বসবাস করেন। আমরা সবাই কৃষক। বাবা আমাদের তিন ভাইয়ের সঙ্গেই থাকতেন। বছর দুয়েক আগে আমাদের এক ভাই মারা গেছেন। ভাবি ও তার মেয়ের সঙ্গেই এখন বসবাস করেন বাবা।’

সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শামছুল আলম বলেন, গুপিনপুরের লোকমান হোসেন মন্ডল জীবিত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে কখনো মৃত ঘোষণা করাও হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে তাকে মৃত ভেবে ভাতা বন্ধ করেছে বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। হয়তো নির্বাচন কমিশনের তথ্য সংগ্রহকারীদের খামখেয়ালিপনার কারণে অসহায় ও হত দরিদ্র এই মানুষটির সরকারি সহায়তা (বয়স্ক ভাতা) বন্ধ রয়েছে।

সাত বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ডটি দেওয়া হয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান আরো বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৫০০ টাকার ভাতাটি বন্ধ হয়ে যায়, বিষয়টি খুবই কষ্টকর। বয়স্করা এমনিতেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।

এ প্রসঙ্গে সুজানগর সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমন্বয়কারী নূরে শাহরিন বলেন, লোকমান হোসেন মন্ডলের মতো একই ইউনিয়নে শ্রী কণিকা রাণী সাহা নামক আরো এক নারীর ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে।

সুজানগর উপজেলা সমাজসেবা কর্তকর্তা নামজুল হাসান বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটার তালিকার সার্ভারে লোকমান হোসেন মন্ডলের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে তাকে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এজন্য তার বয়স্ক ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন বিষয়টিকে ‘খুবই দুঃখজনক’ উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহকারীরা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী আবেদন করলে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করে দেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, আমি শুনেছি বিষয়টি, শোনার সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি